সহযোগীদের খবর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ঝুলে যাচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ!’। খবরে বলা হয়, ঝুলে যাচ্ছে বহু কাঙ্ক্ষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’! সনদের দুটি বিষয় নিয়ে জটিলতা আছে। প্রথমত, নির্বাচনের আগেই সনদের আইনি ভিত্তি। দ্বিতীয়ত, নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন। অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দূরত্ব কমেনি। কোনো দল ছাড় দেবে সে ইঙ্গিত মেলেনি। রাজনৈতিক দলগুলো সমন্বিত খসড়ার ওপর যে মতামত দিয়েছে, সেখানে প্রত্যাশার প্রতিফলন নেই।
ঐকমত্যে না এসে রাজপথের হুমকি দিচ্ছে দলগুলো। এক্ষেত্রে নিজেদের পক্ষ ভারী করতে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ফলে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জুলাই সনদ ঘোষণা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ দলগুলোর দূরত্ব কমাতে তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আজ বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জানতে চাইলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, জুলাই সনদ ঝুলে যাবে কিনা তা আমি বলতে পারব না। এটি আপনাদের বিশ্লেষণ। তবে আমাদের জায়গা থেকে কাজ করছি। তিনি বলেন, সনদের সমন্বিত খসড়ার ওপর রাজনৈতিক দলগুলো মতামত দিয়েছে। সেই মতামত সমন্বয় করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে দু-একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছি। আগামীকাল (রোববার) এবং পরশু (সোমবার) আরও দু-একটি দলের সঙ্গে বৈঠক হবে। সেই বৈঠকের আলোকে দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সনদ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠাব। এরপর পরবর্তী আলোচনা।
মতবিরোধের ইস্যুগুলোতে রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মতামত পেয়েছেন কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কিছু প্রত্যাশা করিনি। উনাদের মতামত চেয়েছিলাম। উনারা মতামত তুলে ধরেছেন। সেই মতামত পর্যালোচনা করে আবার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টা করছি। যতদিন আমাদের মেয়াদ আছে, সে পর্যন্ত চেষ্টা করে যাব। বিকল্প কী করার আছে তা নিয়ে আলোচনা হবে। আপনাদের মেয়াদ অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি। দেখা যাক কী হয়।
‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’র সমন্বিত খসড়া ১৬ আগস্ট ৩০টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠায় ঐকমত্য কমিশন। খসড়ায় তিনটি অংশ আছে। প্রথম অংশে সনদের পটভূমিতে ৫টি প্রস্তাবনা, দ্বিতীয় অংশে ঐকমত্য হওয়া ৮৪টি সিদ্ধান্ত এবং তৃতীয় অংশে আছে ৮টি অঙ্গীকার। আবার ঐকমত্য হওয়া ৮৪টির মধ্যে ১৪টিতে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। এই খসড়ার ওপর মতামত চাওয়া হয়। এক্ষেত্রে ২৯টি দল মতামত জমা দিয়েছে। এই মতামতের ওপর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ফের আলোচনা করেছে কমিশন। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা হবে। তবে সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপিসহ বড় রাজনৈতিক দলগুলো যার যার অবস্থানে এখনো অনড়। এ অবস্থায় সংকট নিরসনে ৪টি বিকল্প দেখছে ঐকমত্য কমিশন। এগুলো হলো-গণভোট, সুপ্রিমকোর্টের মতামত, বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থা ও অধ্যাদেশ জারি। সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় তা উল্লেখ থাকবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ওপর।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের আলোকে সনদে ভাষাগত ও অঙ্গীকারনামায় কিছু পরিবর্তন করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সরকারের উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যেও বৈঠক করেছে। জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস সনদের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি চায়। তাদের দাবি, সনদের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। অপরদিকে বিএনপি ও সমমনা দল চায় সাংবিধানিক সংস্কার নির্বাচিত সরকার করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সনদের ৮৪টি সুপারিশ বাস্তবায়নের তিনটি আইনি দিক রয়েছে। প্রথমত, বেশকিছু সুপারিশ নির্বাহী আদেশ দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। দ্বিতীয়ত, কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নে আইন পরিবর্তন বা নতুন আইন করতে হবে। তৃতীয়ত, মৌলিক সুপারিশ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন করতেই হবে। এসব কারণে সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মুখোমুখি। বিএনপি বলছে নির্বাচিত সরকার ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। ফলে পরবর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি বলছে, নির্বাচনের আগে সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং নির্বাচন হতে হবে সনদের ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে সনদের একটি সুপারিশে বলা আছে, সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর (আনুপাতিক ভোট) পদ্ধতিতে সদস্য নির্বাচিত হবেন। বিএনপি এক্ষেত্রে আপত্তি দিয়েছে। তারা উচ্চকক্ষেও পিআর চায় না। তবে জামায়াত এবং এনসিপি শুধু উচ্চকক্ষেই নয়, নিম্নকক্ষেও পিআর চায়। সেখান থেকে এক জায়গায় আসা কঠিন। এক্ষেত্রে ন্যূনতম ঐক্যে আসতে সময় লাগবে। আবার সনদ চূড়ান্ত হলেও সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা বাস্তবায়ন নিয়ে। বিশেষ করে যে সব মৌলিক বিষয়ে আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা একেবারেই কম। অর্থাৎ এগুলো কাগজেই আটকে থাকবে। আর যেগুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর আইনি ভিত্তি না পেলে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি এসব বিষয় নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ চূড়ান্ত করতে চায়। এক্ষেত্রে সময় আছে ১১ কার্যদিবস।
এদিকে খসড়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। যাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এর মধ্যে আছেন-আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এমএ মতিন, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন এবং ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বিত খসড়ায় ৮৪টি সিদ্ধান্তের মধ্যে মৌলিক ১৪টি বিষয়ে আপত্তি দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে রয়েছে-প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে না থাকা, তত্ত্বাধায়ক সরকারের গঠন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, আইনসভার উচ্চকক্ষে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি এবং রাষ্ট্রের মূলনীতি উল্লেখযোগ্য। সবচেয়ে বেশি আপত্তি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমমনা কয়েক দল। এর মধ্যে ৯টি আপত্তি রয়েছে। ৪টিতে আপত্তি দিয়েছে সিপিবি ও বাম দল, ১টিতে জামায়াতে ইসলাম এবং ২টি অন্যান্য ইসলামি দল। এর মধ্যে আবার কমন আপত্তি রয়েছে। আপত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনোটিতে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত এবং আবার কোনোটিতে আংশিক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ইস্যুতে দলগুলোর আরও কাছাকাছি আসা উচিত। ঐকমত্য না হলে এগুলো বাস্তবায়ন অনিশ্চিত।ঢাকার রেস্তোরাঁ
প্রথম আলো
‘রাজনীতিতে উত্তাপ, আজ যমুনায় জরুরি বৈঠক’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান মতভিন্নতার মধ্যেই হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ রোববার বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার রাতে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের লাঠিপেটায় নুরুল হকের আহত হওয়ার ঘটনায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারসহ দেশের প্রায় সব দল এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের এক সভায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, আজ বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে। দল তিনটির সঙ্গে বৈঠক হবে আলাদাভাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের ডেকেছেন। বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে হয়তো আলাপ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘ওনারা তিনটার সময় ডেকেছেন। ওই সময় আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা আছে। এটা পূর্বনির্ধারিত। হয়তো আমরা সময়টা অ্যাডজাস্ট করার জন্য অনুরোধ করব।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিকেল সাড়ে চারটায় ও এনসিপির সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
কালের কণ্ঠ
‘রাজনীতিতে উত্তাপ, শঙ্কা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একধরনের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সংঘর্ষ, নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলা দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়িয়েছে। দেশের নানা এলাকায় জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নুরের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘সরকার দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করছে যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা হবে।’
আর চার মাস পরে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এরই মধ্যে নির্বাচনী রোডম্যাপও ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে কমিশনের পক্ষে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচন হবে ইতিহাসের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচন। ইসির এই রোডম্যাপ ঘোষণাকে বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলো স্বাগত জানালেও জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভালোভাবে নেয়নি।
দলগুলোর দাবি, জুলাই বিপ্লবের চেতনা (স্পিরিট) ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনে জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান এবং এর বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত ছিল।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করতে পারে এবং এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। কিন্তু দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় জুলাই সনদ কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে, এর আইনি ভিত্তি কী হবে তা এখনো অস্পষ্ট।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা হবে’। খবরে বলা হয়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানিয়ে সরকার বলেছে, ‘প্রভাব বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, জড়িত কোনো ব্যক্তি জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবে না। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে এর বিচার সম্পন্ন করা হবে।’
বিবৃতিতে উল্লেখ হয়, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করছে যে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একনিষ্ঠ অঙ্গীকার। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সকল ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আমাদের গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে। জনগণের ইচ্ছা জয়ী হবে, কোনো অশুভ শক্তিকে গণতন্ত্রের পথে আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না।’
সরকার বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই সংকটকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় আহ্বান জানায়। আমাদের সংগ্রামের অর্জন রক্ষা করতে, জনবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে এবং গণতন্ত্রে আমাদের সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য।’
কেবল নুরের ওপরই নয়, এই ধরনের সহিংসতা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ঐতিহাসিক সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্পিরিটের ওপরেও আঘাত বলে মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়, এই নৃশংস ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে সম্পন্ন করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
নয়া দিগন্ত
‘রাজনীতির অন্তরালে নতুন অঙ্ক’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার পর রাজনৈতিক অঙ্গন আবার সরগরম হয়ে উঠেছে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণ-অধিকার পরিষদের সংঘর্ষ এবং পরে সেনা-পুলিশের লাঠিপেটায় নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ চলছে। ঘটনাটি কেবল তাৎক্ষণিক সহিংসতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আগামী নির্বাচন ও জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ অঙ্কের সাথেও জড়িয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
রাজনীতিতে এখন প্রধানত দু’টি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- ১. জাতীয় পার্টিকে ঘিরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কি শুরু হয়েছে? ২. আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলের আসনে বসানোর কোনো গোপন প্রচেষ্টা কি চালানো হচ্ছে?
গণঅধিকার পরিষদ (গঅপ) বরাবরই জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। তবে এতদিন সেটি খুব আলোচনায় না এলেও নুরের ওপর হামলার পর এই দাবি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।
নির্বাচনপূর্ব প্রেক্ষাপট ও জাপার ভূমিকা
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। সেই শূন্যতা পূরণে কে বিরোধী দলের আসনে বসবে, কে নির্বাচন-উত্তর ভারসাম্য রক্ষা করবে- এই প্রশ্ন এখন মুখ্য।
গত মে মাসে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার আগে ‘শেখ পরিবার’ বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্বে দলটিকে পুনর্গঠনের আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়। এর পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে জাতীয় পার্টি। বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক কাজে লাগিয়ে জাপাকে সামনে আনার চেষ্টা চলছে, যাতে ভবিষ্যতে আওয়ামী পুনর্বাসনও সহজ হয়।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘জাপার হঠাৎ সক্রিয়তায় উত্তাপ’। খবরে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির (জাপা) নড়াচড়ায় হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতি। দলটি নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে আবারও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মূলে রয়েছে সুবিধার জন্য বারবার ভোল পাল্টানো জাপাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সন্দেহ। সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অনৈক্যের সময় জাপার এই সক্রিয়তা কয়েকটি দল সন্দেহের চোখে দেখছে। দলগুলো মনে করছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাপার হঠাৎ সক্রিয়তা স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক তৎপরতা না হয়ে কোনো কৌশলগত সমঝোতার ফলও হতে পারে। নির্বাচন সামনে রেখে অতীতের মতো এবারও জাপাকে সামনে রেখে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে।
রাজনীতিতে জাপার হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠাকে জামায়াত দেখছে ‘নতুন ষড়যন্ত্র’ হিসেবে। এনসিপি মনে করছে, জাপাকে নির্বাচনে নিয়ে আসার মাধ্যমে পতিত আওয়ামী লীগের লোকদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। তাদের নিয়ে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের অতীতের যে পরিকল্পনা, সেটি বাস্তবায়নের পথে অনেকে হাঁটার চেষ্টা করছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা আরও কয়েকটি দলও মনে করে, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য জাপাকে মাঠে নামানোর চেষ্টা চলছে।
অবশ্য জাপা বলছে, আওয়ামী লীগকে টানার মতো অবস্থা তাদের নেই। এসব সন্দেহ তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ১৯৯০-এর দশক থেকে দেশের রাজনীতিতে সুবিধার জন্য বারবার ভোল পাল্টেছে জাপা। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর গৃহবিবাদে বিভক্ত হলেও চরিত্রে তেমন একটা বদল হয়নি বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও দলটিতে ভাঙন হয়েছে। কিছুদিন আগে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে নতুন অংশ আত্মপ্রকাশ করেছে। অপর অংশের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের)। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের আমলে দলটি ‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ তকমা পেয়েছিল।
দেশ রূপান্তর
‘নুরে উত্তাল রাজনীতি’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে কিছু রাজনৈতিক দল। যদিও যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কার কথাও উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার কাকরাইলে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, একপর্যায়ে গণ অধিকারের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বেধড়ক মারধর ও রক্তাক্ত করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে এবং সারা দেশে। নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া এসেছে খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও। গুরুতর আহত নুর এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।ঢাকার রেস্তোরাঁ
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা বিবৃতি দিয়েছেন। অনেক নেতা চিকিৎসাধীন নুরকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছেন। অন্যদিকে, নুরের ওপর হামলার বিচার ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি জেলায় দলটির অফিস ভাঙচুর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণ অধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেধড়ক লাঠিপেটায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ অনেকেই গুরুতর আহত হন। হামলা ও মারধরে নুর মাথায় আঘাত পান। তার নাকের হাড়ও ভেঙে গেছে। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের অবস্থা স্থিতিশীল। তার জ্ঞান ফিরেছে। তবে তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।ঢাকার রেস্তোরাঁ
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘ফেব্রুয়ারিতে ভোটে অনড় সরকার’। খবরে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছে।
গতকাল দেশবাসীকে সরকার আশস্ত করে বলেছে, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করছে যে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার এবং আমাদের গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে।’ গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল যমুনায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমরা শক্তভাবে বলছি, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো শক্তি নেই এটা প্রতিহত করার।’
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকারের শক্ত অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। তাদের শীর্ষ নেতারা বলছেন, নির্বাচনের বিরুদ্ধে যে কোনো ষড়যন্ত্র তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি : গতকাল সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বিলম্বিত বা ব্যাহত করার যে কোনো ষড়যন্ত্র, বাধা বা প্রচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করছে যে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি এটি অন্তর্বর্তী সরকারের একনিষ্ঠ অঙ্গীকার। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার এবং আমাদের গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে। জনগণের ইচ্ছা জয়ী হবে, কোনো অশুভ শক্তিকে গণতন্ত্রের পথে আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না। সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির প্রতি ঐক্যের আহ্বানও জানিয়েছে। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের সংগ্রামের অর্জন রক্ষা করতে, জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে এবং গণতন্ত্রে আমাদের সফল রূপান্তর নিশ্চিত করতে এই ঐক্য অপরিহার্য। এ ছাড়া বিবৃতিতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ঝুলে যাচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ!’। খবরে বলা হয়, ঝুলে যাচ্ছে বহু কাঙ্ক্ষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’! সনদের দুটি বিষয় নিয়ে জটিলতা আছে। প্রথমত, নির্বাচনের আগেই সনদের আইনি ভিত্তি। দ্বিতীয়ত, নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন। অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দূরত্ব কমেনি। কোনো দল ছাড় দেবে সে ইঙ্গিত মেলেনি। রাজনৈতিক দলগুলো সমন্বিত খসড়ার ওপর যে মতামত দিয়েছে, সেখানে প্রত্যাশার প্রতিফলন নেই।
ঐকমত্যে না এসে রাজপথের হুমকি দিচ্ছে দলগুলো। এক্ষেত্রে নিজেদের পক্ষ ভারী করতে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ফলে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জুলাই সনদ ঘোষণা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ দলগুলোর দূরত্ব কমাতে তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আজ বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জানতে চাইলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, জুলাই সনদ ঝুলে যাবে কিনা তা আমি বলতে পারব না। এটি আপনাদের বিশ্লেষণ। তবে আমাদের জায়গা থেকে কাজ করছি। তিনি বলেন, সনদের সমন্বিত খসড়ার ওপর রাজনৈতিক দলগুলো মতামত দিয়েছে। সেই মতামত সমন্বয় করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে দু-একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছি। আগামীকাল (রোববার) এবং পরশু (সোমবার) আরও দু-একটি দলের সঙ্গে বৈঠক হবে। সেই বৈঠকের আলোকে দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সনদ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠাব। এরপর পরবর্তী আলোচনা।
মতবিরোধের ইস্যুগুলোতে রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মতামত পেয়েছেন কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কিছু প্রত্যাশা করিনি। উনাদের মতামত চেয়েছিলাম। উনারা মতামত তুলে ধরেছেন। সেই মতামত পর্যালোচনা করে আবার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টা করছি। যতদিন আমাদের মেয়াদ আছে, সে পর্যন্ত চেষ্টা করে যাব। বিকল্প কী করার আছে তা নিয়ে আলোচনা হবে। আপনাদের মেয়াদ অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি। দেখা যাক কী হয়।
‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’র সমন্বিত খসড়া ১৬ আগস্ট ৩০টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠায় ঐকমত্য কমিশন। খসড়ায় তিনটি অংশ আছে। প্রথম অংশে সনদের পটভূমিতে ৫টি প্রস্তাবনা, দ্বিতীয় অংশে ঐকমত্য হওয়া ৮৪টি সিদ্ধান্ত এবং তৃতীয় অংশে আছে ৮টি অঙ্গীকার। আবার ঐকমত্য হওয়া ৮৪টির মধ্যে ১৪টিতে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। এই খসড়ার ওপর মতামত চাওয়া হয়। এক্ষেত্রে ২৯টি দল মতামত জমা দিয়েছে। এই মতামতের ওপর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ফের আলোচনা করেছে কমিশন। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা হবে। তবে সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপিসহ বড় রাজনৈতিক দলগুলো যার যার অবস্থানে এখনো অনড়। এ অবস্থায় সংকট নিরসনে ৪টি বিকল্প দেখছে ঐকমত্য কমিশন। এগুলো হলো-গণভোট, সুপ্রিমকোর্টের মতামত, বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থা ও অধ্যাদেশ জারি। সনদের চূড়ান্ত খসড়ায় তা উল্লেখ থাকবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ওপর।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের আলোকে সনদে ভাষাগত ও অঙ্গীকারনামায় কিছু পরিবর্তন করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সরকারের উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যেও বৈঠক করেছে। জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস সনদের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি চায়। তাদের দাবি, সনদের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। অপরদিকে বিএনপি ও সমমনা দল চায় সাংবিধানিক সংস্কার নির্বাচিত সরকার করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সনদের ৮৪টি সুপারিশ বাস্তবায়নের তিনটি আইনি দিক রয়েছে। প্রথমত, বেশকিছু সুপারিশ নির্বাহী আদেশ দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। দ্বিতীয়ত, কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নে আইন পরিবর্তন বা নতুন আইন করতে হবে। তৃতীয়ত, মৌলিক সুপারিশ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন করতেই হবে। এসব কারণে সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মুখোমুখি। বিএনপি বলছে নির্বাচিত সরকার ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। ফলে পরবর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি বলছে, নির্বাচনের আগে সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং নির্বাচন হতে হবে সনদের ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে সনদের একটি সুপারিশে বলা আছে, সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর (আনুপাতিক ভোট) পদ্ধতিতে সদস্য নির্বাচিত হবেন। বিএনপি এক্ষেত্রে আপত্তি দিয়েছে। তারা উচ্চকক্ষেও পিআর চায় না। তবে জামায়াত এবং এনসিপি শুধু উচ্চকক্ষেই নয়, নিম্নকক্ষেও পিআর চায়। সেখান থেকে এক জায়গায় আসা কঠিন। এক্ষেত্রে ন্যূনতম ঐক্যে আসতে সময় লাগবে। আবার সনদ চূড়ান্ত হলেও সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা বাস্তবায়ন নিয়ে। বিশেষ করে যে সব মৌলিক বিষয়ে আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা একেবারেই কম। অর্থাৎ এগুলো কাগজেই আটকে থাকবে। আর যেগুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর আইনি ভিত্তি না পেলে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি এসব বিষয় নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ চূড়ান্ত করতে চায়। এক্ষেত্রে সময় আছে ১১ কার্যদিবস।
এদিকে খসড়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। যাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এর মধ্যে আছেন-আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এমএ মতিন, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন এবং ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বিত খসড়ায় ৮৪টি সিদ্ধান্তের মধ্যে মৌলিক ১৪টি বিষয়ে আপত্তি দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে রয়েছে-প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে না থাকা, তত্ত্বাধায়ক সরকারের গঠন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, আইনসভার উচ্চকক্ষে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি এবং রাষ্ট্রের মূলনীতি উল্লেখযোগ্য। সবচেয়ে বেশি আপত্তি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমমনা কয়েক দল। এর মধ্যে ৯টি আপত্তি রয়েছে। ৪টিতে আপত্তি দিয়েছে সিপিবি ও বাম দল, ১টিতে জামায়াতে ইসলাম এবং ২টি অন্যান্য ইসলামি দল। এর মধ্যে আবার কমন আপত্তি রয়েছে। আপত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনোটিতে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত এবং আবার কোনোটিতে আংশিক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ইস্যুতে দলগুলোর আরও কাছাকাছি আসা উচিত। ঐকমত্য না হলে এগুলো বাস্তবায়ন অনিশ্চিত।ঢাকার রেস্তোরাঁ
প্রথম আলো
‘রাজনীতিতে উত্তাপ, আজ যমুনায় জরুরি বৈঠক’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান মতভিন্নতার মধ্যেই হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ রোববার বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার রাতে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের লাঠিপেটায় নুরুল হকের আহত হওয়ার ঘটনায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারসহ দেশের প্রায় সব দল এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের এক সভায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, আজ বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে। দল তিনটির সঙ্গে বৈঠক হবে আলাদাভাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের ডেকেছেন। বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে হয়তো আলাপ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘ওনারা তিনটার সময় ডেকেছেন। ওই সময় আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা আছে। এটা পূর্বনির্ধারিত। হয়তো আমরা সময়টা অ্যাডজাস্ট করার জন্য অনুরোধ করব।’
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিকেল সাড়ে চারটায় ও এনসিপির সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
কালের কণ্ঠ
‘রাজনীতিতে উত্তাপ, শঙ্কা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একধরনের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সংঘর্ষ, নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলা দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়িয়েছে। দেশের নানা এলাকায় জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নুরের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘সরকার দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করছে যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা হবে।’
আর চার মাস পরে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এরই মধ্যে নির্বাচনী রোডম্যাপও ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে কমিশনের পক্ষে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচন হবে ইতিহাসের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচন। ইসির এই রোডম্যাপ ঘোষণাকে বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলো স্বাগত জানালেও জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভালোভাবে নেয়নি।
দলগুলোর দাবি, জুলাই বিপ্লবের চেতনা (স্পিরিট) ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনে জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান এবং এর বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত ছিল।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করতে পারে এবং এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। কিন্তু দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় জুলাই সনদ কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে, এর আইনি ভিত্তি কী হবে তা এখনো অস্পষ্ট।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা হবে’। খবরে বলা হয়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানিয়ে সরকার বলেছে, ‘প্রভাব বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, জড়িত কোনো ব্যক্তি জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবে না। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে এর বিচার সম্পন্ন করা হবে।’
বিবৃতিতে উল্লেখ হয়, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করছে যে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একনিষ্ঠ অঙ্গীকার। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সকল ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আমাদের গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে। জনগণের ইচ্ছা জয়ী হবে, কোনো অশুভ শক্তিকে গণতন্ত্রের পথে আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না।’
সরকার বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই সংকটকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় আহ্বান জানায়। আমাদের সংগ্রামের অর্জন রক্ষা করতে, জনবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে এবং গণতন্ত্রে আমাদের সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য।’
কেবল নুরের ওপরই নয়, এই ধরনের সহিংসতা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ঐতিহাসিক সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্পিরিটের ওপরেও আঘাত বলে মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়, এই নৃশংস ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে সম্পন্ন করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
নয়া দিগন্ত
‘রাজনীতির অন্তরালে নতুন অঙ্ক’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার পর রাজনৈতিক অঙ্গন আবার সরগরম হয়ে উঠেছে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণ-অধিকার পরিষদের সংঘর্ষ এবং পরে সেনা-পুলিশের লাঠিপেটায় নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ চলছে। ঘটনাটি কেবল তাৎক্ষণিক সহিংসতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আগামী নির্বাচন ও জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ অঙ্কের সাথেও জড়িয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
রাজনীতিতে এখন প্রধানত দু’টি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- ১. জাতীয় পার্টিকে ঘিরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কি শুরু হয়েছে? ২. আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলের আসনে বসানোর কোনো গোপন প্রচেষ্টা কি চালানো হচ্ছে?
গণঅধিকার পরিষদ (গঅপ) বরাবরই জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। তবে এতদিন সেটি খুব আলোচনায় না এলেও নুরের ওপর হামলার পর এই দাবি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।
নির্বাচনপূর্ব প্রেক্ষাপট ও জাপার ভূমিকা
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। সেই শূন্যতা পূরণে কে বিরোধী দলের আসনে বসবে, কে নির্বাচন-উত্তর ভারসাম্য রক্ষা করবে- এই প্রশ্ন এখন মুখ্য।
গত মে মাসে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার আগে ‘শেখ পরিবার’ বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্বে দলটিকে পুনর্গঠনের আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়। এর পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে জাতীয় পার্টি। বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক কাজে লাগিয়ে জাপাকে সামনে আনার চেষ্টা চলছে, যাতে ভবিষ্যতে আওয়ামী পুনর্বাসনও সহজ হয়।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘জাপার হঠাৎ সক্রিয়তায় উত্তাপ’। খবরে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির (জাপা) নড়াচড়ায় হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতি। দলটি নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে আবারও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মূলে রয়েছে সুবিধার জন্য বারবার ভোল পাল্টানো জাপাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সন্দেহ। সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অনৈক্যের সময় জাপার এই সক্রিয়তা কয়েকটি দল সন্দেহের চোখে দেখছে। দলগুলো মনে করছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাপার হঠাৎ সক্রিয়তা স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক তৎপরতা না হয়ে কোনো কৌশলগত সমঝোতার ফলও হতে পারে। নির্বাচন সামনে রেখে অতীতের মতো এবারও জাপাকে সামনে রেখে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে।
রাজনীতিতে জাপার হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠাকে জামায়াত দেখছে ‘নতুন ষড়যন্ত্র’ হিসেবে। এনসিপি মনে করছে, জাপাকে নির্বাচনে নিয়ে আসার মাধ্যমে পতিত আওয়ামী লীগের লোকদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। তাদের নিয়ে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের অতীতের যে পরিকল্পনা, সেটি বাস্তবায়নের পথে অনেকে হাঁটার চেষ্টা করছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা আরও কয়েকটি দলও মনে করে, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য জাপাকে মাঠে নামানোর চেষ্টা চলছে।
অবশ্য জাপা বলছে, আওয়ামী লীগকে টানার মতো অবস্থা তাদের নেই। এসব সন্দেহ তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ১৯৯০-এর দশক থেকে দেশের রাজনীতিতে সুবিধার জন্য বারবার ভোল পাল্টেছে জাপা। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর গৃহবিবাদে বিভক্ত হলেও চরিত্রে তেমন একটা বদল হয়নি বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও দলটিতে ভাঙন হয়েছে। কিছুদিন আগে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে নতুন অংশ আত্মপ্রকাশ করেছে। অপর অংশের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের)। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের আমলে দলটি ‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ তকমা পেয়েছিল।
দেশ রূপান্তর
‘নুরে উত্তাল রাজনীতি’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে কিছু রাজনৈতিক দল। যদিও যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কার কথাও উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার কাকরাইলে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, একপর্যায়ে গণ অধিকারের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বেধড়ক মারধর ও রক্তাক্ত করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে এবং সারা দেশে। নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া এসেছে খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও। গুরুতর আহত নুর এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।ঢাকার রেস্তোরাঁ
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা বিবৃতি দিয়েছেন। অনেক নেতা চিকিৎসাধীন নুরকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছেন। অন্যদিকে, নুরের ওপর হামলার বিচার ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি জেলায় দলটির অফিস ভাঙচুর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণ অধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেধড়ক লাঠিপেটায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ অনেকেই গুরুতর আহত হন। হামলা ও মারধরে নুর মাথায় আঘাত পান। তার নাকের হাড়ও ভেঙে গেছে। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের অবস্থা স্থিতিশীল। তার জ্ঞান ফিরেছে। তবে তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।ঢাকার রেস্তোরাঁ
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘ফেব্রুয়ারিতে ভোটে অনড় সরকার’। খবরে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছে।
গতকাল দেশবাসীকে সরকার আশস্ত করে বলেছে, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করছে যে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার এবং আমাদের গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে।’ গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল যমুনায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমরা শক্তভাবে বলছি, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো শক্তি নেই এটা প্রতিহত করার।’
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকারের শক্ত অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। তাদের শীর্ষ নেতারা বলছেন, নির্বাচনের বিরুদ্ধে যে কোনো ষড়যন্ত্র তারা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি : গতকাল সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বিলম্বিত বা ব্যাহত করার যে কোনো ষড়যন্ত্র, বাধা বা প্রচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করছে যে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি এটি অন্তর্বর্তী সরকারের একনিষ্ঠ অঙ্গীকার। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার এবং আমাদের গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে। জনগণের ইচ্ছা জয়ী হবে, কোনো অশুভ শক্তিকে গণতন্ত্রের পথে আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না। সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির প্রতি ঐক্যের আহ্বানও জানিয়েছে। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের সংগ্রামের অর্জন রক্ষা করতে, জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে এবং গণতন্ত্রে আমাদের সফল রূপান্তর নিশ্চিত করতে এই ঐক্য অপরিহার্য। এ ছাড়া বিবৃতিতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।