রাজধানীতে কওমি মাদরাসার প্রচলিত শিক্ষাধারার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে জামিয়া কাশিফুল উলূম ঢাকা। কোরআন-হাদিস ও দরসে নেজামির পাশাপাশি স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রম, কম্পিউটার শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষাচর্চা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।
জামিয়ার সঙ্গে আছে স্কুল ও কলেজ বিভাগ। কওমি মাদরাসার পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা স্কুল শাখার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাস করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আরবি ভাষা শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এখানে। মাদানি নেসাবের আলোকে শিক্ষার্থীদের আরবি বলা, পড়া ও লেখার ওপর নিয়মিত অনুশীলন করানো হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরবি কথোপকথনের চর্চাও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম শুধু পাঠ্যবইনির্ভর নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের কথা বিবেচনায় রেখে কম্পিউটার ও কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কম্পিউটার গ্রাফিকস ডিজাইন, আউটসোর্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং, লাইটিং ও ক্যামেরা পরিচালনার মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গড়ে তোলা হয়েছে ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস বিভাগ।
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশেও রয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। তাদের উদ্যোগে প্রকাশিত হচ্ছে বাংলা ও আরবি মাসিক পত্রিকা। আছে আর্টস ও ক্যালিগ্রাফি বিভাগ। শারীরিক সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরির জন্য মার্শাল আর্টসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
দিনের বেলায় মাদরাসার নিয়মিত কার্যক্রম এবং রাতে স্কুল ও কলেজ বিভাগের পাঠদান চলে। ফলে একই শিক্ষার্থী ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার দুটি ধারায় পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা পরিকল্পনায় কওমি মাদরাসার ঐতিহ্যবাহী পাঠক্রমের পাশাপাশি সময়ের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
জামিয়া কাশিফুল উলূম ঢাকার পরিচালক সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ বলেন, ‘একটি মুসলিম দেশের নতুন প্রজন্মকে কোরআন ও হাদিসের শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক মননচর্চায় দক্ষ করে গড়ে তোলা সময়ের দাবি। আমরা এমন শিক্ষার্থী তৈরি করতে চাই, যারা দ্বিনের জ্ঞান ধারণের পাশাপাশি আধুনিক বিশ্ব সম্পর্কে জানবে এবং দেশ ও সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।’
ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ তথা বহুমুখী শিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে জামিয়া কাশিফুল উলূম ঢাকা কওমি শিক্ষাঙ্গনে একটি ভিন্নধারার মডেল নিয়ে কাজ করছে। সময়ের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে কওমি শিক্ষাকে কিভাবে আরো বহুমুখী করা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে তারই একটি প্রয়াস দেখা যাচ্ছে।