জাতীয় পেনশন স্কিমে জমাকৃত অর্থের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মুনাফার পরিমাণ ১৬ কোটি ৩৩ লাখ ৪ হাজার ২৩ টাকা। এতে সর্বোচ্চ মুনাফাপ্রাপ্তির হার ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ। একই সঙ্গে সুরক্ষা স্কিমে সর্বোচ্চ জমার হার ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সোমবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের তৃতীয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন খান আলোচ্য বিষয়সমূহ সভায় উপস্থাপন করেন। পরিচলনা পর্ষদের সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় জানানো হয়, জাতীয় পেনশন স্কিমে গত ৩০ জুন পর্যন্ত সর্বমোট তিন লাখ ৭৩ হাজার ৯৮৭ জন চাঁদাদাতার মাসিক চাঁদা এবং ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের প্রারম্ভিক স্থিতিসহ মোট জমাকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮৭ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার ৫৪ টাকা।
সুরক্ষা স্কিমে চাঁদার হার বৃদ্ধিকরণ : সুরক্ষা স্কিমটি স্ব-নিযুক্তদের জন্য। স্ব-নিযুক্ত ক্যাটাগরিতে যেমন নিম্ন আয়ের লোক রয়েছেন, তেমনি উচ্চ আয়ের লোকও রয়েছেন। এ স্কিমে বর্তমানে সর্বোচ্চ চাঁদার হার ৫ হাজার টাকা। উচ্চ আয়ের স্ব-নিযুক্ত নাগরিকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে প্রগতি পেনশন স্কিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুরক্ষা স্কিমে সর্বোচ্চ জমার হার ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করার বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।
আউটসোর্সিং সেবাকর্মীদের পেনশন স্কিমে সম্পৃক্তকরণ : অর্থ বিভাগ কর্তৃক জারীকৃত আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫-এর আওতায় আউটসোর্সিং সেবাকর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সামর্থ্য থাকলে সেবাকর্মীরা উচ্চতর থ্রেশহোল্ডে অংশ নিতে পারবেন। আউটসোর্সিং সেবাকর্মীদের এ স্কিমে অংশগ্রহণের জন্য মাসিক চাঁদার পুরোটাই সেবাকর্মী বহন করবেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো অবদান থাকবে না।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ইসলামিক ভার্সন চালুকরণ : সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ইসলামিক ভার্সন চালুকরণ সংক্রান্ত বিষয়টি আলোচনা করা হয়। এসংক্রান্ত সর্বোত্তম অনুশীলনসমূহ পর্যালোচনা করে ধারণাপত্র তৈরির কাজ সম্পন্ন করে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ইসলামিক ভার্সন চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বিমা সুবিধা চালুকরণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। অ্যাকচুয়াল অ্যানালাইসিসের ভিত্তিতে এ বিষয়ে ধারণাপত্র তৈরির কাজ জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করার জন্য পরিচলনা পর্ষদ কর্তৃক জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেওয়া হয়।