​বিএনপি না জামাত! কোন জোটে যাচ্ছে ইসলামি দলগুলো?

আপলোড সময় : ১১-০৮-২০২৫ ১০:৫৪:৫৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৮-২০২৫ ১১:০৫:২১ পূর্বাহ্ন

দেশে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর মধ্যে ইসলামি দল ১১টি। নিবন্ধিত ইসলামি দলগুলোর মধ্যেই নানামত রয়েছে। এতে কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক দল যেমন রয়েছে, একইসঙ্গে ধর্মীয় নেতা বা পীরদের দল রয়েছে। সেখানে  খানকা ও মাজারকেন্দ্রিক দলও রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর জামায়াত এবং অন্যান্য ইসলামী দল ও সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে; অনেক ক্ষেত্রেই তা চোখে পড়ার মতো। 

এর মধ্যেই বিএনপি এবং জামায়াতের পাশাপাশি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোও পরস্পর মতবিনিময় করছে। গনভুত্থান পরবর্তী ইসলামি রাজনীতির সম্ভাবনাময় উত্তানকে কতোটা কাজে লাগাতে পারবে ইসলামী দলগুলো? এমন প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক সচেতন মহলে। নিজেরো একজোট হয়ে কাজ করার জন্য বারবার বসলেও সেটি বাস্তবে আলোর মূখ দেখেনি। ফলে নিজেদের ভিতর জোট গঠন বাদ দিয়ে বড় দুই দল বিএনপি ও জামাতের দিকেই ছুটছেন কেউ কেউ!

ইতোমধ্যে সকল ইসলামী দলের রাজনৈতিক ঐক্য হচ্ছে না এটি প্রায় নিশ্চিত। বাংলাদেশে ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে মতের ভিন্নতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকলেও এখন নির্বাচন লক্ষ্য করে 'এক বাক্সে ভোট আনার' স্লোগান তোলা হয়েছে। কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক পাঁচটি দল নির্বাচনি জোট করার তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে শুরু থেকেই ইসলামী জোটের বিষয়ে কয়েকটি দলের বিষয়ে সন্দেহ ছিল অনেকের ভিতরে।  ইসলামী জোটের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে  দলগুলোর মধ্যে।  অপরদিকে অন্যতম প্রধান দল বিএনপিও ইসলামি দলগুলোকে কাছে টানার চেষ্টায় রয়েছে।শেষ পর্যন্ত ইসলামপন্থিদের রাজনীতির মেরুকরণ কোথায় গিয়ে ঠেকবে, এই প্রশ্নে এসব দলের মধ্যেই চলছে নানা আলোচনা।

ইসলামি দলগুলোর তৎপরতা নিয়ে ইসলামপন্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যে একাধিক ধারা তৈরি হয়েছে। একদিকে হেফাজতের একাংশ ও জমিয়ত সরাসরি জামাতের বিরোদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন সহ কয়েকটি দল আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। বিএনপি চাচ্ছে সকল ইসলামি দল একজোট না হয়ে তারা যেন বিভক্ত থাকে বা তাদের সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচন করে৷ এই ডাকে ইতোমধ্যে অনেকেই সারা দিয়েছেন। ফলে জনমনে প্রশ্ন ইসলামি দলগুলো এই নির্বাচনে কোন দিকে যাচ্ছে?  আসল মেরুকরণ কী হচ্ছে। না দুই জোটে বিভক্ত হয়ে পরবেন তারা?

 কেউ কেউ মনে করছে, পৃথক তৎপরতা চালিয়ে কোনো কোনো দল নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে একটা অবস্থান তৈরি করতে চাইছে। এমন কথাও বলাবলি আছে, যেহেতু বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে থাকলে সমঝোতায় কিছু আসন পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে কোনো কোনো দলের বিএনপির সমর্থনে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।নির্বাচনে জামায়াত ছাড়া ইসলামপন্থি অন্য দলগুলোর নেতাদের এককভাবে জয়ী হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ফলে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে তাদের জেতার সম্ভবনা থাকে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দলগুলোর বেশিরভাগই বিএনপির দিকে ঝুঁকবে এবং তাতে ইসলামপন্থিদের ঐক্যের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

যদিও একমাত্র ইসলামী আন্দোলন ছাড়া একসময় জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তারা জোট থেকে বেরিয়ে যায়।

এ বিষয়টির উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান  বলেন, ‘কেন তারা (ইসলামি দল) বিএনপির জোট থেকে বেরিয়ে এল, নিশ্চয়ই প্রতিকূল অবস্থা তৈরি হয়েছিল। আবার বিএনপি আন্তরিক হলে তাদের তো বের হয়ে আসারও কথা না। ইসলামি দলগুলোকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, বিএনপি বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে গিয়ে কোনো দলই শক্তিশালী হয়নি; বরং দুর্বল হয়েছে। আমরা মনে করি, এখন ইসলামি দলগুলোকে নিজেদের স্বার্থেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’


এতে ইসলামি দলগুলোতে কোনো ধরনের দোটানা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন না জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গনমাধ্যমে  দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না এতে কোনো দোটানা অবস্থার তৈরি করছে। কারণ, সবাইকে (ইসলামি দলগুলো) আমি যথেষ্ট ইন্টেলিজেন্ট মনে করি, ম্যাচিউরড মনে করি। সবাই সবকিছু দেখে, চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।’জামায়াত এবং অন্য ইসলামি দলগুলোর কয়েকজন নেতাও বলেছেন, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে রাজনীতিতে আরও মেরুকরণ হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত মেরুকরণ হতে পারে।

অবশ্য বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জাতীয় সরকার এমন ঘোষনা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার ঘোষনার পর ইসলামন্থীদের মাঝে আগামি নির্বাচনে বিএনপিকে নিয়ে জাতীয়,সরকার গঠনের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বলে জানান জমিয়তের এক শীর্ষ নেতা। এছাড়া তারা মনে করেন বড় জোটের সাথে থাকলে আসন পাওয়া ও এমপি হওয়া নিশ্চিত করা যাবে। অনেকেই এখন আলাদা জোট করে ঝুকি নিতে চান না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভোট না থাকলেও ইসলামপন্থি দলগুলো সঙ্গে থাকলে এরও একটা রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এসব বিবেচনায় এবার বিএনপি ও জামায়াত তাদের পৃথকভাবে কাছে টানার চেষ্টায় রয়েছে। 

১ আগস্ট হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির প্রবীণ ইসলামি ব্যক্তিত্ব আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সালাহউদ্দিন আহমদ। উত্তর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম মাদ্রাসায় অরাজনৈতিক এই বৃহৎ ইসলামি সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ হয়। এ সময় বিএনপির দুই নীতিনির্ধারক দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তরফ থেকে হেফাজতের আমিরকে সালাম পৌঁছে দেন এবং দোয়াও চান। হেফাজতের আমিরের স্বাস্থ্যগত অবস্থার খোঁজখবর নেন বিএনপির দুই নেতা। এছাড়া হাটহাজারীতে পৌঁছেই সেখানে হেফাজতে ইসলামের মরহুম আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন। এর পর থেকেই মূলত হেফাজতের একটি বড় অংশ তাদের সমর্থিত রাজনৈতিক দলগুলো বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হওয়ার জন্য সংলাপ ও যোগাযোগ শুরু করেছে। এর কয়েকদিন পরেই হেফাজত আমীর জামাতেরবিরোদ্ধে শক্ত আকীদাগত বয়ান করেন। ফলে ইসলামী দলগুলোর জন্য একন জামাতের সাথে জোট করা কঠিন হয়ে পরেছে।

 রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে জামাত ও ইসলামী আন্দোলন ছাড়া বাকি সকল রাজনৈতিক দল বিএনপির সাথেই শেষ পর্যন্ত বৃহত্তম রাজনৈতিক জোট করতে যাচ্ছে। তবে দ্বিধাবিভক্ত ইসলামী রাজনৈতিক বৈর প্রভাব পরতে পারে ভোটের মাঠে বিভিন্ন  আসনে একাধিক ইসলামী প্রার্থী থাকলে এর খারাপ প্রভাব পরবে ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে এমনটাও মনে করছেন কেউকেউ। ফলে আলেমরা নিজেদের ভিতর আরো দন্ধ সংঘাত ও সংকটে পরতে পারেন আবার জনগনের আস্থাও নষ্ট হতে পারে।  জনগনের প্রত্যাশা ছিল ঐক্যবদ্ধ ইসলামি শক্তিকে একসাথে দেখা। যদিও সেটী আর হচ্ছে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক : সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ 

ন্যাশনাল মিডিয়া হাউজ লিঃ 

ঠিকানা : রিসোর্সফুল পল্টন সিটি, ৮ম তলা, ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন। ঢাকা-১০০০.

ফোন : 0963 8932 732, ই মেইল : news@nationaltimes24.com

অফিস :