২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের ফাঁদে নারী পাচারের চেষ্টা, কেন্দুয়ায় চীনা নাগরিকসহ আটক ২

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ১৫-০৯-২০২৫ ০৭:৪৮:১১ অপরাহ্ন
বিয়ের ফাঁদে নারী পাচারের চেষ্টা, কেন্দুয়ায় চীনা নাগরিকসহ আটক ২

বিয়ের ফাঁদে ফেলে তিন নারীকে চীনে পাচারের চেষ্টাকালে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় চীনা নাগরিকসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে কেন্দুয়া পৌর সদরের কমলপুর গ্রামের রুবেল মিয়ার বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। বর্তমানে তাদেরকে কেন্দুয়া থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

আটক দুই ব্যক্তি হলেন চীনা নাগরিক লি ওয়েইহাও এবং কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটের মো. ফরিদুল ইসলাম।

সরেজমিন জানা যায়, রবিবার রাত ১০টার দিকে পৌরসভার কমলপুর গ্রামের রুবেল মিয়ার বাড়িতে একটি প্রাইভেটকারযোগে একজন চীনা নাগরিক, এক বাংলাদেশি নাগরিক, রুবেল মিয়ার মেয়ে, তার খালাতো বোন এবং জামালপুর থেকে আসা তার এক বান্ধবী কিশোরী উপস্থিত হয়। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তারা চীনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রুবেল মিয়ার বাড়িতে আসে। সেখান থেকে রাতেই ঢাকা রওনা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

 
পরে কয়েক দিনের মধ্যেই চীনে চলে যাবে বলে তারা জানায়। চীনা নাগরিকের সঙ্গে রুবেল মিয়ার মেয়ের বিয়ের কথা জানাজানি হলে উপস্থিত স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়। এ সময় সচেতন কয়েকজন বিয়ের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা মোবাইল ফোনে কিছু ডকুমেন্টস দেখায়, যাতে অসংগতি লক্ষ্য করা যায়। সন্দেহ আরো বেড়ে গেলে রাত ১টা ৫৯ মিনিটে স্থানীয়রা পাশের মদন সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জকে বিষয়টি জানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কিছু ডকুমেন্টস পাঠান।
 
মদন সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জ ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার এ বিষয়ে মুঠোফোনে খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেন এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন। ‎সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জের ফোন পেয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান কেন্দুয়া থানার তদন্ত বিভাগের প্রধান ওসি (তদন্ত) মিহির রঞ্জন দেবকে নির্দেশ দেন এবং তদন্ত ওসি সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাত ২টা ১৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন।

 

কেন্দুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজন কিশোরীসহ একজন চীনা নাগরিক ও একজন বাংলাদেশি নাগরিককে সেখানে দেখতে পায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিন কিশোরীকে বাড়ির মালিক রুবেল মিয়ার হেফাজতে রাখা হয়। পরে চীনা নাগরিক লি ওয়েইহাও এবং কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটের মো. ফরিদুল ইসলামকে (৩৫)  আটক করে প্রাইভেট কারসহ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৪টার দিকে কেন্দুয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

 
বর্তমানে তারা থানায় আটক রয়েছেন এবং তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

 

বাংলাদেশি নাগরিক ফরিদুল ইসলাম জানান, তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন এবং এক বায়ারের মাধ্যমে চীনা নাগরিকটির সঙ্গে তার অল্প দিনের পরিচয় হয়। তবে ফরিদুলের মোবাইলে একাধিক চীনা নাগরিকের সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ড এবং কয়েকজন বাঙালি নারীর সঙ্গে চীনা নাগরিকদের ডুয়েট ছবি পাওয়া গেছে। এসব দেখে উপস্থিত স্থানীয় জনতা ধারণা করছে, ফরিদুল একটি নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে একজন চীনা নাগরিক ও একজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছি। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’

নারী পাচারের চেষ্টায় আটককৃতদের বিষয়ে মদন সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জ ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমি কেন্দুয়া থানার ওসিকে বিষয়টি জানাই। পরে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং অভিযুক্তদের আটক করেন। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 
 
 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ