২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ডাকসু-জাকসুতে ‘সমন্বয়কদের’ বিপর্যয়, চ্যালেঞ্জের মুখে এনসিপি?

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ১৪-০৯-২০২৫ ০৮:২১:২৪ অপরাহ্ন
ডাকসু-জাকসুতে ‘সমন্বয়কদের’ বিপর্যয়, চ্যালেঞ্জের মুখে এনসিপি?

ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ বা বাগছাসের। এক বছর আগে যে তরুণদের নেতৃত্বে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই নেতৃত্বের একটা বড় অংশ কেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের পছন্দের তালিকায় নেই, সে প্রশ্ন বেশ জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে।
 

অথচ গেল আগস্টে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা। যে কারণে অনেকেই ভেবেছিলেন, আবু বাকের মজুমদার-আবদুল কাদেরের মতো প্রথমসারির সমন্বয়কদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস প্যানেলের প্রার্থীরাই এই ডাকসু-জাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদে ভাল ফলাফল পেতে পারেন।

ডাকসু নির্বাচনের আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির শীর্ষ নেতারা বাগছাসের প্যানেলকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে তরুণদের নিজেদের জনপ্রিয়তা জাহির করার সুযোগ ছিল নবীন এই রাজনৈতিক দলের সামনে। কিন্তু ডাকসু-জাগসুতে বাগছাস প্যানেলের ভরাডুবিতে এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এনসিপি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব ও বর্তমানে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল যেমন বলছেন, যদি বাগছাস এই ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগরে ভাল ফল করতে পারতো তার ইতিবাচক প্রভাব এনসিপির রাজনীতিতেও পড়তো।

তবে তারা এটিও মনে করছেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের কিছু কিছু কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পড়েছে। যে কারণে হতাশাজনক ফলাফল এসেছে ডাকসু কিংবা জাকসুতে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়করা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য সরব থাকলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই তাদের মধ্যে বিভক্ত বেড়েছে। যেমন ডাকসুর নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরুর পর দেখা গেছে, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী ও এনসিপির কেউ কেউ আলাদা তিনটি প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। পরবর্তীতে সে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করলেও ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদের কোন পদেই জয় পায়নি বাগছাসের নেতৃত্বাধীন প্যানেল। ডাকসুতে বিভিন্ন পদে বাগছাস প্যানেলের প্রার্থীদের ভোটও পেয়েছে অনেক কম। প্যানেলগত অবস্থানের দিক থেকেও সেই চতুর্থ কিংবা পঞ্চম।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ছোট দুটি পদে জয় পেয়েছে বাগছাস প্যানেল।

বড় দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের এমন ফলাফলের কারণ হিসেবে নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও কিছু কিছু নেতাকর্মীর নেতিবাচক ইমেজকে দায়ী করছেন এনসিপির নেতারা।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, একে তো প্রস্তুতি নেওয়ার ঘাটতি ছিল। অন্যদিকে বাগছাসের সাংগঠনিক কাঠামোও ছিল দুর্বল। যে কারণে আশানুরূপ ফল পায়নি এনসিপি।

অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারের উপদেষ্টা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে করছেন দলটির নেতাদের কেউ কেউ।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বলেন. আমাদের কেউ কেউ রাষ্ট্র পরিচালনার খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তাদের অনভিজ্ঞতা, অক্ষমতা কিংবা তাদের নিয়ে মিডিয়া ট্রায়ালও হয়েছে। ফলে একটা বিতর্কিত ইমেজ তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়তে পারে এই নির্বাচনে।

এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি কিংবা অন্যান্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে এনসিপি নেতাদের কেউ কেউ জড়িয়েছেন। যার কারণে ছাত্রদের এই সংগঠনটির ভোটে প্রভাব পড়েছে বলেও দলটির নেতারা মনে করছেন।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ