২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

হযরত মাওলানা মুফতি সাইয়েদ সালমান মনসুরপুরী

মুমিনের জীবনে আল্লাহ পাকের সবচেয়ে বড় নেয়ামত

আপলোড সময় : ১২-০৯-২০২৫ ০৩:৫১:০১ অপরাহ্ন
মুমিনের জীবনে আল্লাহ পাকের সবচেয়ে বড় নেয়ামত
হযরত মাওলানা মুফতি সাইয়েদ সালমান মনসুরপুরী হাফিজাহুল্লাহ-  শায়খুল ইসলাম মাদানী রহ:-এর দৌহিত্র- দারুল উলুম দেওবন্দের মুহাদ্দিস-মুফতি 
বিশ্ববরেণ্য ইসলামিক স্কলার-  শতাধিক গবেষণাধর্মী ইসলামী গ্রন্থের লেখক- আজ সিলেটের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়িয়েছেন-
জুমা পূর্বে আলোচনা পেশ করলেন- কয়েকটি উক্তি হৃদয়ে গেঁথে রাখার মতো--
হযরত বলেন-
১-মুমিনের জীবনে আল্লাহ পাকের সবচেয়ে বড়
নেয়ামত ঈমান-আর ঈমানের দাবি হল,প্রতিক্ষণে
আল্লাহর নেয়ামতের শুকুর আদায় করা।
২-ঈমান মানে হল আমার বলতে কিছু নেই,সবকিছু 
আল্লাহর-এমন অনুভূতি লালন করা।
৩-আমাদের আসলাফ ও বুজুর্গগণ নিজের গুণ ও
যোগ্যতার দিকে তাকাতেননা,আল্লাহর রহমতের দিকে তাকাতেন,অনুতপ্ত হয়ে বলতেন,আল্লাহ নালায়েককে বিশেষ নেয়ামত দিয়েছেন-
৪- প্রকৃত ঈমান নিজের জান মালের ব্যাপারে এমন বিশ্বাস রাখা,আল্লাহ যেভাবে দিয়েছেন,তিনি নিতেও
পারেন,সর্বাবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা-
হযরতের প্রতিটি কথায় মুক্তা ঝরে,পাথর মনও
বিগলিত হয়-
মুনাজাতে  বললেন-
হে আল্লাহ! আমরা কাপুরষ মুসলমানদের উপর দয়া কর,গা জা র মুসলমানদের সাহায্য কর,আমাদের ভাই-বোনেরা এমনভাবে যদি নিপীড়িত হতে থাকে,
আমরা তোমার কাছে কী জবাব দিব?
খুতবার কিছু অংশ ছিল তাঁর নানা শায়খুল ইসলাম মাদানী রহ লিখিত-
হযরত যখন খুতবা দিচ্ছিলেন-মানসনেত্রে শায়খুল ইসলামের চিত্র ভেসে আসছিল,মনে হচ্ছিল-শায়খুল ইসলাম মাদানী রহ খুতবা দিচ্ছেন-
আল্লাহ হযরতের হায়াতে বারাকাত দিন। 
মনসুরপুরি হাফি. এর জুমুআ সংক্রান্ত আজকের কয়েকটি আমল সৈয়দ মারজান চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন- 
১. মিম্বারে না বসে আলাদা চেয়ার ব্যবহার করে জুমুআর বয়ান দেয়া। শুধু খুতবাহ মিম্বার থেকে দেয়া।
২. খুতবার মধ্যখানে "বসে থাকা"একটু দীর্ঘ করা। আমাদের ইমামগণ ৩/৫ সেকেন্ড বসেন, উনি প্রায় ৩০ সেকেন্ড বসে মনে মনে দুআ করেছেন। এ সময় দুআ কবুলের একটি উত্তম মুহূর্ত। 
৩. খুতবাহ স্বাভাবিক স্বরে ধীরস্থিরে দেয়া। এতো বেশি দীর্ঘও নয় আবার একদম সংক্ষিপ্তও নয়। উনার খুতবাহ অসাধারণ ও অনন্য মনে হয়েছে। 
৪. নামাজের পরের দুআ একদম বিনা আওয়াজে হওয়া। এ বিষয়টি চমৎকার হয়েছে। 
এ বিষয়ে আমাদের ইমামদের আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিৎ। 
আল্লাহ তায়ালা হযরতের তিলাওয়াতে অসম্ভব একটি মায়াবী সুর দিয়েছেন। অবিকল আব্দুল্লাহ বুআইজানের কণ্ঠের মতো। চমৎকার লেগেছে। প্রথম রাকাতে সম্পূর্ণ সুরা পড়েছেন (সুরায়ে আ'লা)  মধুর আওয়াজে অসম্ভব সুন্দর তিলাওয়াত। এই বয়সেও এসেও একি সাথে তিন চার আয়াত পড়ার সক্ষমতা অবাক করার মতো-
আমার মনের একটা ব্যাথা!
শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানি রাহিমাহুল্লাহর নিকট সিলেটবাসী ঋনী-
সারা বিশ্বে ইলমী ও আধ্যাত্মিক খেদমতের সুযোগ থাকা সত্বেও তিনি সিলেটকে খেদমতের জন্য বেছে
নিয়েছেন- একাধারে চার বছর সিলেটে ছিলেন-
নিজ পিতার স্মৃতির ভালোবাসায় শায়খুল ইসলাম রহ: এর সাহেবযাদা ফেদায়ে মিল্লাত আসআদ মাদানি রাহিমাহুল্লাহ-প্রতিবছর সিলেট আসতেন-
এরই ধারাবাহিকতায় ইউরোপ-আমেরিকা সহ বিশ্বের বিভিন্নস্থানের দাওয়াত উপেক্ষা করে মাদানি পরিবারের তারকাগুলো সিলেট ছুটে আসেন-
কিন্তু আমরা তাদের যথাযথ মর্যাদা দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছি!
ফেদায়ে মিল্লাত রহ: এর আগমনে সিলেটের সর্বত্র
আনন্দের বন্যা বইত-কওমী অঙ্গনে নবউদ্যমতা
ছড়িয়ে পড়ত-কালক্রমে তা ম্রিয়মাণ হতে চলেছে-
সোনালি সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমাদের মুরব্বি উলামায়ে কেরামের সুদৃষ্টি কামনা করছি-
আল্লাহ বাস্তবতা উপলব্ধি করে উদ্যোগ নেয়ার তাওফিক দিন।

মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ
সিনিয়র শিক্ষক
জামিয়া মাদানীয়া কাজিরবাজার সিলেট


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ