সেই সর্ব মিত্রকে ঢাবি শিবির সভাপতি ফরহাদের উপদেশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী হিসেবে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৮ হাজার ৯৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন সর্ব মিত্র চাকমা।
নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়া আলোচিত নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশেষ উপদেশ দিয়েছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস ও ঢাবি শিবির সভাপতি এসএম ফরহাদ।
এ নিয়ে বুধবার সকালে ফেসবুক টাইমলাইনে সর্বমিত্র চাকমা নিজেই জানিয়েছেন তার অনুরাগীদের।
সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, “সিনেট থেকে বের হয়ে ফরহাদ ভাইয়ের প্রথম উপদেশ, ‘এতোদিন তোমার পেছনে যারা লেগে ছিল, সেসব এখন অতীত। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে।আরো নম্রতার সাথে সবকিছু ডিল করতে হবে।”
শিবির সমর্থিত জোটে বিজয়ী হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তার সহযোদ্ধা ও ভোটারদের উদ্দেশে নবনির্বাচিত সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, আপনাদের ভালোবাসা-দোয়া-আশীর্বাদ আমাকে বিচলিত হতে দেয়নি এক মুহূর্তের জন্য, কখনো ভাবনায় আসেনি "ভুল করেছি কিনা!" আপনাদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। বিশেষ কারণে কেউ হিংসা-বিদ্বেষ লালন করতে চাইলে ক্ষতি নেই।তবে, আমাদের অধিকার আদায়ে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করি।দল-মত ভুলে একসাথে আপনাদের সাথে কাজ করতে চাই।
তিনি বলেন, ডাকসুতে নির্বাচিত হওয়াটা আমার কাছে চেয়ার বা পদ বা ক্ষমতা নয়, এটা একটা বিরাট দায়িত্ব।হাজারটা প্রত্যাশা নিয়ে আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির সমীকরণটা যেভাবেই হোক মেলাতেই হবে! স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেয়ার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন , আমি আপনাদের নিরাশ করবো না। আমাদের সংগ্রাম জারি থাকবে।
প্রসঙ্গত, ডাকসু নির্বাচনে এবার ভূমিধস জয় হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের। সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদসহ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই জয়ী হয়েছেন শিবির প্যানেলের প্রার্থীরা।
ভিপি পদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাদিক কায়েম, জিএস পদে ঢাবি শিবির সভাপতি এস এম ফরহাদ এবং এজিএস পদে ঢাবি শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দীন খান বিজয়ী হয়েছেন।
সাদিক কায়েম ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন। জিএস পদে ছাত্রশিবিরের নেতা এস এম ফরহাদ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এজিএস পদে ছাত্রশিবিরের নেতা মুহা. মহিউদ্দীন খান ১১ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন শিক্ষার্থীরা। ভোটাররা ডাকসুর ২৮টি পদ এবং প্রতিটি হল সংসদের ১৩টি পদে ভোট দেন। কেন্দ্রীয় সংসদের পদগুলোতে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদিকে, হল সংসদের ১৮টি হল থেকে এক হাজার ৩৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। অর্থাৎ ভোটারদের ৪১টি ভোট দিতে হয়।
কমেন্ট বক্স