২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

এক-এগারোর পদধ্বনি নাকি বাঘের গল্প! : নিয়াজ মাহমুদ

আপলোড সময় : ০৮-০৮-২০২৫ ১১:১৩:৩২ পূর্বাহ্ন
এক-এগারোর পদধ্বনি নাকি বাঘের গল্প! : নিয়াজ মাহমুদ
‘এক-এগারোর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে!’–এই এক লাইনের স্ট্যাটাসটি ফেসবুকে দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এমন সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি দেশের বাইরেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাচক্রে, এই মন্তব্যটি এসেছে শেখ হাসিনার সরকার পতনের বর্ষপূর্তির ঠিক একদিন আগে, এমন এক সময়ে যখন জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান।


Pause

Mute
Remaining Time -19:52
Unibots.com

এক-এগারো: ইতিহাসের প্রতিধ্বনি!

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় বদলের দিন। রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে, যার প্রেক্ষাপটে শুরু হয় এক ‘শুদ্ধি অভিযান’। বহু রাজনৈতিক নেতা গ্রেপ্তার হন, গণমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং দীর্ঘ দুই বছর নির্বাচন বন্ধ থাকে। ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে তার মায়ের সঙ্গে বন্দী করা হয়। লন্ডনে ১৬ বছরের নির্বাসনকালে জিয়া পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তিনি তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে হারান এবং বহু আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। আর তাই একে কেউ দেখেন ‘সংস্কারের সূচনা’ হিসেবে, আবার কেউ বলেন ‘গণতন্ত্রের ওপর হস্তক্ষেপ’। সেই পটভূমিতে মাহফুজ আলমের স্ট্যাটাসের তাৎপর্যকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কি কোনো গোপন তথ্যের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, নাকি এটি নিছক রাজনৈতিক বার্তা? ওদিকে, দেশ ও জাতির কল্যাণে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে বিভেদ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। গণঅভ্যুত্থানের আহ্বান ও ৪ঠা আগস্ট স্মরণে রাজধানীতে সোমবার পতাকা মিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।বাংলাদেশের পোশাক

এই লেখা যখন লিখছি তার আগেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে ‘এক-এগারোর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে’ শীর্ষক পোস্টটি ডিলিট করেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তবুও মোটা দাগে প্রশ্ন রয়ে যায়?

বাঘ আসছে নাকি ভয় দেখানো হচ্ছে?

বাঙালি সমাজে ‘বাঘ আসছে ...রাখাল বালকের গল্প’ একটি প্রচলিত রূপক, যা সাধারণত অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আতঙ্ক যদি সত্যি হয়, তখন তার পরিণাম মারাত্মক হতে পারে। অতীতে একাধিকবার সরকার ও বিরোধী পক্ষ ‘সেনা হস্তক্ষেপ’, ‘বিদেশি চাপ’, কিংবা ‘অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত’ নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করেছে। ‘এক-এগারোর মতো পরিস্থিতি হঠাৎ আসে না। তার পেছনে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, জনগণের ক্ষোভ, রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরের অসন্তোষ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাব থাকে। উপদেষ্টার এমন মন্তব্য হয়তো রাজনৈতিক কৌশল বা সতর্কবার্তা হতে পারে।’ জুলাই আন্দোলন এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া উপদেষ্টা মাহফুজ তার দ্বিতীয় স্ট্যাটাসে জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন আন্দোলনের পেছনের ‘প্ররোচনামূলক’ ভূমিকাও ইঙ্গিত করেন। অথচ সরকারের ভাষ্যমতে, এসব আন্দোলন ‘স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রকাশ’। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, সিটি নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষকদের বেতন আন্দোলনসহ নানা ইস্যুতে জনমনে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। বিশ্লেষক মনে করেন, ‘যদি সত্যি সত্যি বাঘ আসে, তাহলে সব পক্ষেরই ক্ষতি হবে। ইতিহাস সাক্ষী, এক-এগারোর মতো ব্যবস্থায় শেষ পর্যন্ত কেউই লাভবান হয়নি–না রাজনীতিক, না জনগণ।’ বিদেশি প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বাংলাদেশকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ইস্যু এসব পদধ্বনির আবহকে আরও গুরুতর করে তোলে। ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগ ও উন্নয়নের পূর্বশর্ত। যদি এক-এগারোর ছায়া আবার ফিরে আসে, তাহলে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এখন করণীয় কী? গুজব হোক বা সত্য, মাহফুজ আলমের স্ট্যাটাস আমাদের একটি বাস্তবতায় ফিরিয়ে নিয়ে আসে – রাজনৈতিক রেষারেষির পথ দীর্ঘ হলে, চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষ। "বাঘ আসছে" বলে আতঙ্ক ছড়ানোর আগে রাজনীতিকদের উচিত আস্থা ও আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করা। না হলে ভবিষ্যতের ইতিহাস হয়তো আবার লিখবে – 'একটা সতর্কবার্তা এসেছিল, কেউ শুনেনি।'

এই লেখার শুরুতেই বলছিলাম মন্তব্যটি এসেছে শেখ হাসিনার সরকার পতনের বর্ষপূর্তির ঠিক একদিন আগে। উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের স্ট্যাটাস যখন দেখছি তখন আমি প্রিয় জন্মভূমি থেকে প্রায় আট হাজার কিলোমিটার দূরে ফ্রান্সে অবস্থান করছি। প্রশ্ন রয়ে যায় তাহলে কী এক - এগারো বা শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসন থেকে আমাদের রাজনীতিবিদরা কোন শিক্ষা নেননি?

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটাই প্রশ্ন নির্বাচন হবে তো? আর এই প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে আছে উপদেস্টা মাহফুজ আলমের প্রশ্নের উত্তর! যদিও তিনি তার পোস্টে প্রশ্ন রেখে আবার তা সরিয়ে ফেলেছেন।

লেখক: ইউরোপ প্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক
email: niazjournalist@gmail.com


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ