সহযোগীদের খবর
ছয় দল নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত, বিএনপির সঙ্গে নিষ্ফল বৈঠক
‘ছয় দল নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত, বিএনপির সঙ্গে নিষ্ফল বৈঠক’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই সনদ বিষয়ে মতভিন্নতা কমিয়ে আনতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৈঠক থেকে কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপাড়ায় বৈঠকটি হয় বলে দুদলের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
অনানুষ্ঠানিক ওই বৈঠকের আগে বিকেলে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি এবং খেলাফত মজলিস একটি বৈঠক করে। তাতে জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না– এমন মনোভাব তুলে ধরে দলগুলো। প্রয়োজনে সনদের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের কথাও বলা হয় বৈঠকে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো সমকালকে বলেছে, মূলত বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের আগে জামায়াত এই দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে এবং সবার মতামত বিএনপির কাছে তুলে ধরে। তবে বিএনপি ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং নির্বাচনের আগে সংবিধান সংস্কারের বিপক্ষে তাদের আগের অবস্থানের কথাই জানায়।
জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।
সূত্র জানায়, সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে বরফ না গলায় জামায়াত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইছে। জামায়াত ২৩ বছর তাঁর নেতৃত্বে রাজনীতি করেছে। দলটির নেতাদের মূল্যায়ন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সংস্কারের গুরুত্ব বোঝানো সম্ভব হবে।
নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার আগামী সংসদ নির্বাচনের পথনকশা ঘোষণা করেছে। নভেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগেই ভোট করার জন্য ২৪টি কাজ চিহ্নিত করে তা শেষ করার সময়সূচি ঘোষণা করে কমিশন। বিএনপি একে স্বাগত জানায়। জামায়াত ‘সংঘাত এড়াতে পিআর পদ্ধতিতে পথনকশা ঘোষণা’র দাবি জানায়। এনসিপি জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি না দিয়ে নির্বাচনের পথনকশা ঘোষণাকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল বলে প্রতিক্রিয়া জানায়।
এর আগে অনুষ্ঠিত সাত দলের বৈঠকে জামায়াতের দুই নেতা ছাড়াও ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, গণঅধিকারের সভাপতি নুরুল হক নুর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের।
আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে এই নেতাদের কেউ সমকালের কাছে বৈঠকের সত্যতা স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। তবে জামায়াত নেতা ডা. তাহের সমকালকে বলেছেন, পিআর এবং জুলাই সনদের অধীনে নির্বাচন চায় এমন দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের যোগাযোগ এবং আলোচনা চলছে।
এনসিপি সূত্রের দাবি, নাহিদ ইসলাম এ বৈঠকের উদ্যোগ নেন। দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় করেন আরিফুল ইসলাম আদীব। তবে তারা দুজনই বৈঠক বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
মজিবুর রহমান মঞ্জুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি বক্তব্য না দিয়ে বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে একই অবস্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে প্রয়োজনে কথা হয়।
বিএনপি-জামায়াত বৈঠক
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই দফা সংলাপের পর ১৬ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদের সমন্বিত খসড়া দিয়েছে। এতে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং আট দফা অঙ্গীকার রয়েছে।
৮৪ সিদ্ধান্তের মধ্যে ৭৩টিতে দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে। বাকিগুলোতে বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) রয়েছে। যে ১১ সিদ্ধান্তে ঐকমত্য হয়নি, এর ৯টিতেই বিএনপির আপত্তি রয়েছে। দলটি পিআর পদ্ধতিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠন, দুদক ও তিন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সাংবিধানিক নিয়োগ কমিটি গঠন, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার সিদ্ধান্তে একমত নয় তারা। দলটি জানিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে তারা এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে না।
অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে, সংবিধান ও আইনের ওপরে প্রাধান্য পাবে সনদ। সনদ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারের সিদ্ধান্তগুলো নির্বাচনের আগেই কার্যকর করা হবে। বিএনপি এসব অঙ্গীকারে একমত নয়।
দলটি সনদের খসড়ায় মতামতে বলেছে, সংবিধানের ওপরে কিছুই প্রাধান্য পেতে পারে না। আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ বন্ধ হলে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। যেসব সংস্কার কার্যকরে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, সেগুলো আগামী সংসদে বাস্তবায়ন হবে।
জামায়াত এ অবস্থানের বিরোধী। দলটি চায় সংবিধানের ওপরে সনদের প্রাধান্য। তারা সনদ নিয়ে আদালতের প্রশ্ন তোলার সুযোগ রহিতের পক্ষে। দলটির দাবি, নির্বাচনের আগেই সংবিধান সংস্কারসহ সনদের বাস্তবায়ন করতে হবে। জামায়াত সংসদের উভয় কক্ষেই পিআর চায়। দলটি সনদের অঙ্গীকারে পিআর যুক্ত করা এবং যেসব সংস্কারে তাদের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলোসহ ৮৪টিরই বাস্তবায়ন চায়।
এ অবস্থায় মঙ্গলবার সরকারি মধ্যস্থতায় বিএনপি-জামায়াতের বৈঠকটি হয় বলে সূত্র জানায়। বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া ৯ সংস্কার বিষয়ে আগের অবস্থানেই রয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে বলেছেন, এগুলোতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। শুধু নিম্নকক্ষ নয়, উচ্চকক্ষেও পিআর মানবে না বিএনপি।
জামায়াত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট বা রাষ্ট্রপতি আদেশ চায়। ঐকমত্য কমিশনকে বিশেষজ্ঞরা গণভোট বা বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন।
জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে সালাহউদ্দিন স্পষ্ট করেন– বিএনপি গণভোটের পক্ষে নয়। আর বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ টেকসই হবে কিনা, তাও ভাবা উচিত। তাতে পরবর্তী সংসদের অনুমোদন লাগবে। জামায়াত নেতারাও বৈঠকে দলীয় দাবির পক্ষে অনড় থাকেন। তারা বলেন, পিআর পদ্ধতিতেই নির্বাচন হতে হবে।
বৈঠকের সত্যতা স্বীকার বা অস্বীকার করেননি জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি নির্বাচনী পথনকশা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমকালকে বলেন, ‘জুলাই সনদ ছাড়া কীভাবে নির্বাচন হবে? প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলছেন, পিআর সংবিধানে নেই। সংবিধানে কি অন্তর্বর্তী সরকার আছে? সেই অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ করা নির্বাচন কমিশন যেভাবে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে, তাতে তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে কিনা– তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া দেশের সংকট দূর হবে না।’
সনদ ছাড়া ভোট নয়: সাত দল
জামায়াতের মতো এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, দুই খেলাফতও সনদের আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি চায়। দলগুলোর দাবি, সনদের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।
এনসিপি সনদের ওপর সংবিধানের প্রাধান্য চায় না। দলটি সনদকে সংবিধানের ‘গাইডিং প্রিন্সিপাল’ হিসেবে চায়। দলটির দাবি, সনদের অধীনে আগামী নির্বাচনে গণপরিষদ গঠিত হবে। গণপরিষদ সংস্কারকে অনুমোদন করার পর তা সংসদে রূপান্তরিত হবে।
জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চাইলেও অন্যরা শুধু উচ্চকক্ষে পিআর চায়। এ দলগুলো গণভোট নয়, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সনদ বাস্তবায়ন চায়।
সাত দলের বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, মতপার্থক্য থাকলেও সনদের আইনি ভিত্তি, সনদের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সবাই একমত।
সাত দলের বৈঠকে বলা হয়, আগামী ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে নির্বাচনে আপত্তি নেই তাদের। তবে বিএনপি তাদের ‘নির্বাচনবিরোধী’ তকমা দিতে চাইছে। এ অবস্থায় ভোটে হারার ভয়ে অন্য দলগুলো ভীত– এ বার্তা যেন জনগণের কাছে না যায়, সে জন্য দলগুলো প্রকাশ্যে নির্বাচনের বিরোধিতা করবে না বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। তারা বরং সনদের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার থাকবে। প্রয়োজনে একসঙ্গে আন্দোলন করবে।
জামায়াতের ডা. তাহের সমকালকে বলেছেন, যারা ভোটের আগে সংস্কার চায় না, তারাই মূলত নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায়। যারা সংস্কার চায়, তারাই আসলে নির্বাচনের পক্ষে।
খালেদা জিয়ার দিকে তাকিয়ে জামায়াত
রাজনৈতিক সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও কথা বলেছে। তারা এখন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইছে।
জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক বা সাতটি দলের বৈঠক নিয়ে বিএনপির কোনো নেতা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দলটির সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছে জামায়াত।
গত এপ্রিলে লন্ডনে খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও ডা. তাহের। এর পর দল দুটির পরস্পরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেওয়া কমেছিল। গত কিছু দিনে তা আবার বেড়েছে। জামায়াত সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, খালেদা জিয়াকে সামগ্রিক পরিস্থিতি জানাতে চায় তারা।
প্রথম আলো
দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘বাসা, কারখানাও রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়’। খবরে বলা হয়, সরু গলির শেষ মাথায় পুরোনো ও জংধরা টিনের কয়েকটি ঘর। প্রতিটি ঘর এক কক্ষের। খেটে খাওয়া মানুষ অল্প টাকায় এসব ঘর (ছাপরা হিসেবে পরিচিত) ভাড়া নিয়ে সংসার পেতেছেন। এর মধ্যে একটি ঘর অবশ্য ব্যতিক্রম। সেখানে কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলেছে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক বাছাইয়ে যোগ্য বিবেচিত হওয়া ২২টি দলের মধ্যে অন্যতম জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-শাজাহান সিরাজ)।
রাজধানীর কল্যাণপুরের ১৩ নম্বর সড়কে ওই টিনের ঘর থেকেই রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে দলটি। নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হওয়া আরেকটি দল ‘বাংলাদেশ সলুশন পার্টি’। তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় গাজীপুরের কাপাসিয়ার গ্রামে পোশাক তৈরির একটি ছোট কারখানায়। এই কারখানা অবশ্য এখন বন্ধ আছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস) তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে যে ঠিকানা দিয়েছে, সেটি আসলে দলটির সভাপতির ছেলের বাসা।
যোগ্য বিবেচিত হওয়া ২২টি দলের বিষয়ে ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিন সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেছে প্রথম আলো। এই দলগুলো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের যে ঠিকানা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া নিবন্ধন আবেদনে উল্লেখ করেছে, তার প্রতিটি পরিদর্শন করেছে প্রথম আলো। এর মধ্যে ১৯টি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় রাজধানী ঢাকায়। বাকি তিনটি দলের কার্যালয় সাভার, কেরানীগঞ্জ ও গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। দলগুলোর কার্যালয় পরিদর্শন, নেতাদের বক্তব্য নেওয়া ও তথ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন প্রথম আলোর তিনজন প্রতিবেদক ও দুজন প্রতিনিধি।
যুগান্তর
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎকার নিয়ে দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছি না’। খবরে বলা হয়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তন এসেছে। নতুন এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ১৮ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন অনেক উজ্জীবিত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তারা প্রস্তুত। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন-একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। এতে ভোট দিতে জনগণ মুখিয়ে আছেন। প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপ চলছে জানিয়ে বলেন, প্রাধান্য দেওয়া হবে অপেক্ষাকৃত তরুণদের। নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি হচ্ছে জানিয়ে বলেন, সেখানে অগ্রাধিকার পাবে কর্মসংস্থান। জামায়াতের সঙ্গে জোটের কোনো সম্ভাবনা নেই জানিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, বেশ কয়েকটি ইসলামি দল সঙ্গে থাকবে।
আওয়ামী লীগের ফেরা নিয়ে বলেন, আপাতত ৫০ বছরেও তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা দেখি না। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যুগান্তরকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। দেশের চলমান পরিস্থিতি, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জুলাই সনদ, বিচার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা, ক্ষমতায় গেলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, মৌলবাদ ও উগ্রবাদসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার তারিকুল ইসলাম।
যুগান্তর : ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রায় ১৬ বছর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা, নানা নির্যাতন, গুম-খুন, মামলা-হামলা চলেছে। এবার মুক্ত পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন হবে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সামনে রেখে কী চ্যালেঞ্জ দেখছেন।
মির্জা ফখরুল : দল যেন ইউনাইটেড থাকে, তার চেষ্টা করা। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আসা, যেগুলো আধুনিক প্রজন্মকে আকৃষ্ট করবে। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। এ ধরনের পলিসি যেন আমরা নিতে পারি। আর বড় বিষয় হচ্ছে-সিচুয়েশনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
যুগান্তর : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। নির্বাচন হওয়া নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন কি না?
মির্জা ফখরুল : কোনো শঙ্কা দেখি না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে।
যুগান্তর : নির্বাচনে যেতে পিআরসহ কিছু শর্ত দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল। এসব শর্ত কতটুকু যৌক্তিক মনে করছেন।
মির্জা ফখরুল : এর মধ্যে কোনো যুক্তি খুঁজে পাই না। এমন দাবি তুলছে, যার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ পরিচিত নয়। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (পিআর) সম্পর্কে মানুষ জানে না, বুঝতে সময় লাগবে।
যুগান্তর : সংস্কার ও বিচার নিয়ে বিএনপির অবস্থান কী?
মির্জা ফখরুল : আমরা তো সবার আগে সংস্কারের কথা বলেছি। আমরা বিচার চেয়েছি। আর সবচেয়ে বড় ভিকটিম যেহেতু আমরা, সুতরাং আমরা তো তাদের বিচার চাইবই।
যুগান্তর : জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান কী?
মির্জা ফখরুল : সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির অবস্থান আমরা পরিষ্কার করেছি। প্রতিটি সংস্কারের বিষয়ে আমরা বলে দিয়েছি যে কীভাবে সেটা করা যাবে। সংবিধান বাদ দিয়ে নয়, সংবিধান সংশোধন করা যায়-এ বিষয়গুলো নিয়ে আসা হয়েছে। যেগুলো এখনই অধ্যাদেশে করা যাবে, সেটা করা। আর যেগুলো যাবে না, সেগুলো নির্বাচিত পার্লামেন্ট করবে।
কালের কণ্ঠ
‘জনজীবনে অশ্লীলতার থাবা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে ভুয়া তথ্য প্রচার এবং রাজনৈতিক নেতাসহ বিশিষ্টজনদের চরিত্রহানি এখন চরমে। কটূক্তি, অশ্লীল ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যে কোনো লাগাম নেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। ভুয়া ছবি-ভিডিও তৈরিতে ব্যবহূত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, ডিপফেক ভিডিও।
একটি দলের পক্ষ থেকে কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে প্রতিপক্ষের চৌকস নেতাদের মুখোশ খুলতে, তাঁদের চরিত্র হনন করতে। সম্ভাব্য এই আক্রমণ, অশ্লীলতার জবাব দিতে অন্য দলের পক্ষ থেকেও তাদের কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হতে বলে।
এই পরিস্থিতিতে দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি নিয়ে কোনো পোস্ট দিতে ভয় পাচ্ছেন সজ্জন ব্যক্তিরা। তাঁদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে—‘ফেসবুক এ দেশে এখনো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠল না।
এটা চলে গেছে মূর্খ আর ইতরদের দখলে। ফেসবুককে এখন পাবলিক টয়লেটের দেয়াল মনে হচ্ছে। উগ্রতা, অশ্লীলতা এখন চরম পর্যায়ে। যার যা খুশি মন্তব্য করছে, গালাগালি করছে।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘ইসির রোড ম্যাপ ঘিরে রাজনীতিতে অনৈক্য’। খবরে বলা হয়, ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল আর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের সময় ধরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ বা পথ নকশা ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রোডম্যাপ পেয়ে বিএনপিসহ তাদের সমমনা জোটের নেতারা যখন স্বস্তি প্রকাশ করছেন, তখন পুরোপুরি ভিন্নমত ও প্রকাশ্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী, জুলাই বিপ্লবীদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলাম আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। সংস্কার ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার আগে নির্বাচনের পথ নকশাকে অপরিপক্ব ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে দেখছেন তারা।
জামায়াত-এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে রোডম্যাপ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে।
রোডম্যাপ ঘোষণায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলছেন, যারা নির্বাচনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাই হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে তার ক্ষতি সংশ্লিষ্টদেরই হবে। গতকাল শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচন হবেই। এর কোন বিকল্প নেই। আজকে যদি নির্বাচন বন্ধ করা হয় বা নির্বাচন না হয় তাহলে এই জাতি প্রচন্ড রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার আশঙ্কা অনেক বাড়বে। তিনি বলেন, আপনারা মনে রাখবেন দেশে একটা ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্রটা হচ্ছে দেশে মধ্যপন্থা রাজনীতি, উদারপন্থি রাজনীতি, উদারপন্থি গণতন্ত্র সরিয়ে দিয়ে একটা উগ্রবাদের রাজনীতিকে নিয়ে আসা বাংলাদেশে। এটা বাংলাদেশের জন্য চরম ক্ষতিকর হবে।
গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যারা ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে, তাদেরই কেউ কেউ এখন নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। যার জন্য আমরা তর্ক করছি, বিতর্ক করছি, সংস্কারের জন্য আলাপ-আলোচনা করছি, কিন্তু নির্বাচন নিয়ে দুই-একটা পক্ষ ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে।
নয়া দিগন্ত
‘ভারতীয় পুলিশের কাছে তুলে দিয়ে নির্যাতন চালানো হতো কলকাতায়’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) গুম করার পর বেদম নির্যাতন চালিয়েছে। এরপর ভারতের পুলিশের কাছে তুলে দিলে পাসপোর্ট ছাড়াই কলকাতায় নিয়ে জেলে রাখা হয়। সেখানেও চলে দফায় দফায় নির্যাতন। সাড়ে তিন মাস রেখে দেয় কলকাতা কারাগারে। ভারতের আরেকটি জেলখানায় নিয়েও চালানো হতো নির্যাতন। পরে পুশইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কথাগুলো বলছিলেন গুম হওয়া রহমতুল্লাহ।
তিনি জানান, ‘২০২৩ সালে র্যাবের একটি দল আমাকে তুলে নিয়ে যায়। তারপর জম টুপি পরিয়ে হাত বেঁধে একটি ছোট রুমে ৯ মাস আটকে রাখে। তখন তারা আমাকে বলে তোকে একদল মেরে ফেলতে চায়। আমরা চাই তুই বেঁচে থাক। পরে আমাকে ভারত পাঠিয়ে দেয়। গতকাল রহমতুল্লাহর সাথে কথা হলে তিনি সেই দিনগুলোর স্মৃতি মনে করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন।
গুমের শিকার আরেক ব্যক্তির স্ত্রী গতকাল জানান, ২০১৯ সালে তার স্বামী ইসমাইল হোসেনকে র্যাব গুম করে। এত বছর পরও সে কোথায় আছে কেউ বলতে পারে না। আমি বিভিন্ন দরজায় ঘুরেছি কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে। আমরা জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে আছি। আমাদের আনন্দ বলতে কিছুই নেই। আমার স্বামীকে গুম করার পর আজ পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি। আমি বেঁচে থাকতে তা দেখে যেতে পারব কি না জানি না। আশা করেছি নতুন সরকারের সময় বিচার পাবো। কিন্তু এখন দেখছি জুলাই আন্দোলনের আসামিরাও জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া আমার স্বামীকে যারা গুম করেছে তারা সুন্দরভাবে জীবন পার করছে। তাই মনে হচ্ছে এই বিচার কোনো দিন হবে না।
আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। যারা গুম হয়েছেন এবং এখনো ফিরে আসেননি তাদের জন্য এক কালো অধ্যায়ের দিন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গুমের ঘটনার বিচারের দাবিতে দিনটি জোরালোভাবে পালন করা হয়। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষদের স্মরণ এবং গুমের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতেই দিবসটি পালনের ঘোষণা দেয় জাতিসঙ্ঘ।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘স্বাস্থ্যসেবায় বরাদ্দে এশিয়ার অন্যতম সর্বনিম্ন বাংলাদেশ’। খবরে বলা হয়, স্বাধীনতার পর স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, আয়ুষ্কাল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছরের বেশি। টিকাদান কর্মসূচি প্রায় শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় গড়ে উঠেছে বড়সংখ্যক দক্ষ জনবল। সীমিত সম্পদ দিয়েই এসেছে এসব সাফল্য। তবে এখনো জনসংখ্যার একটি বড় অংশ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো থাকলেও চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও ওষুধের ঘাটতি প্রকট। আছে অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতা। সরকারি বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত।
সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যসেবায় পরিচালন ব্যয় ও বিনিয়োগে এশিয়ার স্বল্প ব্যয়ের দেশ এখনো বাংলাদেশ। সরকারের মোট পরিচালন ব্যয়ের ৩ শতাংশের কিছু বেশি বরাদ্দ হয় এ খাতে। সেখানেও অদক্ষতা, কর্মহীনতা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা। ফলে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে পরিচালন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। যদিও ব্যয় হয় ১৩ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা, যা সরকারের মোট পরিচালন ব্যয়ের মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। তার আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে পরিচালন ব্যয়ের জন্য ১৮ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। যদিও ১৫ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়, যা সরকারের মোট পরিচালন ব্যয়ের মাত্র ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
এশিয়ার দেশগুলোয় স্বাস্থ্য খাতে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের হার যে দেশগুলোয় কম তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। ফলে জনবল সংকট, চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি ও সেবার মানহীনতা থেকেই যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত হেলথ ইকোনমিক্স ইউনিট (এইচইউ) ২০২৩ সালের জুলাইয়ে একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘রিভিউ অব বাংলাদেশ হেলথ কেয়ার ফাইন্যান্স স্ট্র্যাটেজি ২০১২-৩২’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করে সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
দেশ রূপান্তর
‘চাকরি ছাড়ছেন বেবিচক কর্তারা’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেরদৌস হাসান নিয়ন প্রায় ৫ বছর ধরে সিনিয়র অফিসার হিসেবে চাকরি করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে (বেবিচক)। সময়মতো বেতন না বাড়ায় হতাশা জাগে তার মধ্যে। এ কারণে তিনি ইস্তফা দেন চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি। একই পদে কর্মরত অমিত কুমার ঘোষ চাকরি ছেড়েছেন ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল। সিনিয়র অফিসার সাইফুদ্দিনও হতাশা থেকে চাকরি ছাড়েন চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি। সহকারী প্রকৌশলী মো. আইয়ুব মিয়া চাকরি ছাড়েন ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট, নিরীক্ষা অফিসার দোলন আক্তার চাকরি ছাড়েন ২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর।
এ পর্যন্ত বেবিচক থেকে অন্তত ৩৫৬ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন হতাশাজনিত কারণে। তারা যুক্তি হিসেবে দেখিয়েছেন বেতন না বাড়ার বিষয়টিকে। বেতন বাড়ানোর বিষয়ে দোটানায় পড়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। সরকারের উচ্চমহলে যোগাযোগ করছেন বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কিন্তু তারা এখনো নতুন ২ হাজার ৫০০ পদের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারছে না। পদগুলো আদৌ থাকবে কি না সন্দিহান অনেকেই। উল্লেখ্য, পুরনো ৫২২টি পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। নতুন পদের প্রস্তাব হিমঘরে আটকে আছে বলা যায়। অথচ লোকবল সংকটের কারণে বেবিচকে কাজের ব্যাঘাত ঘটছে। বেবিচক কর্মকর্তারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আশার বাণী শোনাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, নতুন পদে নিয়োগের কাঠামো চূড়ান্ত করতে পারেনি বেবিচক। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। কিন্তু সুরাহা হচ্ছে না। এ নিয়ে বেবিচকের কর্মকর্তারা মনঃক্ষুন্ন হলেও প্রকাশ্যে কথা বলছেন না। বেতন বাড়ছে না বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘বেবিচকের নতুন পদগুলো হলে আমাদের অনেক ভালো হবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বেবিচকের বিভিন্ন পদে লোক সংকট থাকলেও তেমন একটা সমস্যা হচ্ছে না। তারপরও আমরা চাচ্ছি নতুন পদগুলো দ্রুত চূড়ান্ত হোক। দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও নিয়মিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকরী হচ্ছে না।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই’। খবরে বলা হয়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে নতুন পাঠ্যবই ছাপা নিয়ে ভিন্ন পথে এগোচ্ছে সরকার। গত কয়েক বছর শুধু দেশি প্রেস মালিকরা বই ছাপার কাজ করলেও এবার মাধ্যমিকের তিন শ্রেণির (ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম) বই ছাপানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজের জন্য দরপত্রে অংশ নিতে পারবে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দেশের বাইরে বই ছাপা হলে বিদেশে চলে যাবে দেশের ৬০০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য বিদেশে পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ প্রথম শুরু হয় আওয়ামী লীগ আমলে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান হলে সিংহভাগ কাজ চলে যাবে বিদেশিদের হাতে। এতে করে এ দেশের কাগজশিল্প ও ছাপাখানার মালিকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া এর মাধ্যমে দেশের টাকা বাইরে চলে যাবে। বইয়ের মান নিয়েও থাকবে প্রশ্ন। তাই দেশি শিল্প বাঁচাতে স্থানীয় দরপত্রের মাধ্যমে বই ছাপানোর দাবি জানিয়েছেন মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২৭তম সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে আগামী শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই দরপত্রের মাধ্যমে মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ এর বিধি ৮৩ (১) (ক) প্রয়োগ করে ক্রয় প্রক্রিয়ার সময় হ্রাসকরণের নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এ সংক্রান্ত প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করে। তথ্যমতে, প্রাথমিকের ৯ কোটি বই ছাপার কেনাকাটার প্রস্তাব অনুমোদন করা হলেও এ বৈঠকে আটকে দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিকের ২১ কোটি বই কেনাকাটার প্রস্তাব। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৩২ হাজার ৮০২ কপি বই ছাপানোর জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় উত্থাপন হয়, যার মোট ব্যয় ধরা হয় ৬০৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি কমিটি।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা: নারীর ৬০ শতাংশ কোটা বাদ’। খবরে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নারীর ৬০ শতাংশ কোটা বাদ দেওয়া হয়েছে; সেই সঙ্গে পোষ্য ও পুরুষ কোটাও। শুধু মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য মোট ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। বাকি ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। এই নিয়োগ হবে উপজেলা অথবা প্রয়োজনে থানাভিত্তিক।
গত বৃহস্পতিবার রাতে জারি হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। এতে রাষ্ট্রপতির আদেশে স্বাক্ষর করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
বিধিমালার তথ্য বলছে, সহকারী শিক্ষকের ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ পদ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের দ্বারা এবং ৮০ শতাংশ পদ অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের দ্বারা পূরণ করা হবে। আর বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য ১ শতাংশ এবং ১ শতাংশ থাকবে শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য। তবে কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাক্রম অনুযায়ী এসব পদ পূরণ করা হবে। প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে ন্যূনতম স্নাতক। শিক্ষাজীবনের কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি থাকা যাবে না।
জানতে চাইলে গতকাল শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজকের পত্রিকাকে বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এত দিন নারীরা ৬০ শতাংশ কোটা সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। এটি শিক্ষকতা পেশায় নারীর উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। সর্বশেষ ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯’ এ সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদের ৬০ শতাংশ মহিলা প্রার্থী, ২০ শতাংশ পোষ্য প্রার্থী এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের দিয়ে পূরণের কথা উল্লেখ ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটিও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় নারী শিক্ষককে অগ্রাধিকার সুপারিশ করেছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিবেদন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। প্রতিবেদনে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় নারী শিক্ষককে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়। কিন্তু নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই সুপারিশের প্রতিফলন নেই।
কমেন্ট বক্স