প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বুধবার রাজধানীতে যে ঘটনা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত। তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন তারা। বুধবার বেলা ১১টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। একপর্যায়ে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যেতে শুরু করেন। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় তাদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। লাঠিপেটার ঘটনাও ঘটে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এ হামলার ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে গতকাল দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো : ১. সহকারী প্রকৌশলী (নবম গ্রেড) পদে শুধু ন্যূনতম বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ দিতে হবে। কোনোভাবেই কোটাভিত্তিক বা অন্য নামে নতুন পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া যাবে না। ২. উপসহকারী প্রকৌশলী (দশম গ্রেড) পদে ন্যূনতম ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার এবং একই ডিসিপ্লিনে উচ্চতর ডিগ্রিধারী বিএসসি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য নিয়োগ পরীক্ষার সুযোগ রাখতে হবে। ৩. প্রকৌশলী পদবির সুরক্ষায় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া কেউ প্রকৌশলী পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না-এর জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নন-অ্যাক্রিডেটেড বিএসসি কোর্সগুলোকে দ্রুত আইইবি-বিএইটিইর স্বীকৃতির আওতায় আনতে হবে। এসব দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা বলছেন, ডিপ্লোমাধারীরা কোনো ধরনের বিসিএস পরীক্ষা না দিয়েই এবং যাদের বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা ‘স্নাতক’ নেই তারাও শুধু পদোন্নতির মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার হয়ে যাচ্ছেন। গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথ, রেলওয়ে, কারিগরি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরগুলোতে দশম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে প্রবেশ করে পাঁচ বছর পর তারা বিসিএস ক্যাডার হয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে ডিপ্লোমা প্রকৌশল শিক্ষার্থী-শিক্ষক-পেশাজীবীরাও তাদের সাত দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। বুধবার তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেন। কাকরাইলে তাদের ওপরও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।
আমরা মনে করি, উভয়পক্ষের দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা উচিত। কেননা এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে তা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। স্বস্তির বিষয়, প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত দাবির যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সুপারিশ প্রণয়নে দ্রুত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ৮ সদস্যের এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকে। তবে এতে শিক্ষক ও ছাত্রদের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনকারীরা। তারা তিন দফা থেকে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে করেন। নতুন দুই দফার মধ্যে রয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। সেই সঙ্গে জবাবদিহি করতে হবে। আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে সব পক্ষেরই সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া উচিত। আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ পথেই সবাইকে এগোতে হবে।