০৪ নভেম্বর ২০২৬ , ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক:

শিকড় সন্ধানী গবেষক সৈয়দ আব্দুল্লাহর ৭৯তম জন্মদিন আজ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০৮:০১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিকড় সন্ধানী গবেষক সৈয়দ আব্দুল্লাহর ৭৯তম জন্মদিন আজ
শিকড় সন্ধানী গবেষক সৈয়দ আব্দুল্লাহর ৭৯তম জন্মদিন আজ

তরফরত্ন খ্যাত শিকড় সন্ধানী গবেষক সৈয়দ আব্দুল্লাহর ৭৯তম জন্মদিন আজ। ৩ নভেম্বর ১৯৪৭ সালে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার উত্তরসুর গ্রামের বিখ্যাত সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান ইতিহাস গবেষক ও আধুনিক বাংলা ইসলামি সাহিত্যের অন্যতম বাকনির্মাতা তিনি। বহুগ্রন্থপ্রণেতা বিদগ্ধ পণ্ডিত মনীষী হিসেবে খ্যাত ছিলেন। আজীবন উত্তরসুর গ্রামে বসবাসকারী এই কর্মবীর মানুষটি আপন যোগ্যতায় আলো ছড়িয়েছেন জাতীয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

বহুগ্রন্থ প্রণেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ ছিলেন এক নামে সবার কাছে পরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন এক মনীষী। সাহিত্যের জন্য নিজের পুরো জীবনকে তিনি ব্যয় করেছেন। সরকারি চাকরির পেনশনের সমস্ত টাকা দিয়ে অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে জাতিকে এক অসামান্য কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেছেন। সাহিত্যের জন্য এমন বিরল দৃষ্টান্ত এদেশে বিরল।

আধুনিক বাংলা ইসলামি সাহিত্যের বাক নির্মাতাদের অন্যতম তিনি। আজকের নতুন প্রজন্মের মাঝে ইসলাম ও ইতিহাস নিয়ে বাংলা সাহিত্যে অনেক লেখক তৈরি হলেও আজ থেকে পাঁচ দশক আগে এই শূন্যতা পূরণ হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের যে কজন মনীষার হাত ধরে তাদের একজন ইতিহাসবিদ সৈয়দ আব্দুল্লাহ। আজকের বাংলা ইসলামি ধারার সমৃদ্ধ পথটি সৈয়দ আব্দুল্লাহসহ যে কয়েকজন মনীষাদের সংগ্রামে তৈরি তাদেরকে জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে বহুকাল।

তিনি ৭০ দশকের জনপ্রিয় কলাম লেখক। মাসিক মদীনার সূচনাকাল থেকে তিনি জড়িত। লিখেন দেশের শীর্ষ জাতীয় দৈনিকেও। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান নিয়ে এই বরেণ্য লেখকের গবেষণা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ইতিহাস গবেষণায় পেয়েছেন বহু স্বীকৃতি। এশিয়া প্রেস ফাউন্ডেশনের এশিয়ার সেরা একশ পণ্ডিত মনীষার স্বীকৃতিও পান তিনি। বিএনএসআই ইংল্যান্ড আন্তর্জাতিক স্বর্ণ পদকও লাভ করেন। বিশ্বকোষ ও ওয়ার্ল্ড পিডিয়াতে তার জীবনী স্থান করে নিয়েছে।
তার লিখিত গবেষণাগ্রন্থ ‘রক্তস্নাত পলাশী’ উভয় বাংলায় সমানভাবে জনপ্রিয়। সৈয়দ আব্দুল্লাহর গবেষণার বড় একটা দিক মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের স্থপতি মুসলিম কবি ও আরকান রাজসভা। মহাকবি সৈয়দ সুলতান, সিলেটের নাগরি লিপি, হজরত শাহজালাল ও সিরাত বিষয়ক তার গবেষণা ইতিহাস গবেষকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত।
সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ সাহিত্য সংগঠক। ঐতিহ্যবাহী তরফ সাহিত্য পরিষদের তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ঢাকা সিলেটের বহু সাহিত্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। একসময় বাংলা একাডেমির ফেলো ছিলেন। কাজ করেছেন বিশ্বকোষ, এশিয়াটিক সোসাইটির বাংলাপিডিয়ার মতো অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে। ২০০৮ সালে বৃহত্তর সিলেট বিভাগের ২৫টি শিল্প সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন মিলে তাকে গ্রামীণ ফোনের সহযোগিতায় বাহুবল একুশে বইমেলায় বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনার মাধ্যমে তরফরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ২০১৮ সালে বাহুবল উপজেলাবাসীর উদ্যোগে ৫৩টি তোরণ নির্মাণ করে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তার ওপর বিভিন্ন দৈনিক ও সাহিত্য সাময়িকী বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে।

তিনি গড়ে তোলেন গ্রামীণ জনপদে পাঠাগার। ‘জামেয়া মাহমুদীয়া হামিদনগর’ ও ‘জামেয়া মোবারকীয়া উত্তরসুর’, বাহুবল পাবলিক লাইব্রেরি, বাহুবল প্রেসক্লাব, বাহুবল একুশে বইমেলাসহ বহু প্রতিষ্ঠান।

তিনি ছিলেন আওলাদে রাসুল আমিরুল হিন্দ ফেদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যেদ আসআদ আল মাদানী রহ.-এর একনিষ্ঠ শিষ্য। ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। ২ এপ্রিল ২০২২ সালে এই বরেণ্য লেখক ঢাকার ধানমন্ডির বাসায় ইন্তেকাল করেন। তার একমাত্র ছেলে লেখক গবেষক সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ সম্প্রতি পিতাকে নিয়ে "আমার আব্বা" নামে ৬০০ পৃষ্ঠার একটি বৃহৎ গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন।

বরেণ্য এই লেখকের জন্মদিন উপলক্ষে তরফরত্ন ফাউন্ডেশন, ঢাকা ও বাহুবলে নাানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

 



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ