০১ নভেম্বর ২০২৬ , ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক:

তালেবানের পক্ষে সমর্থন, আবারও তীব্র সমালোচনার মুখোমুখী জাকির নায়েক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৬ ১২:০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
তালেবানের পক্ষে সমর্থন, আবারও তীব্র সমালোচনার মুখোমুখী জাকির নায়েক
আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ রাখার বিষয়ে তালেবানের অবস্থানকে সমর্থন করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতীয় ইসলামি বক্তা জাকির নায়েক। তার বক্তব্যকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানি শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের বাবা। এ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাংবাদিক, অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদরাও তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে জাকির নায়েক দাবি করেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সব তথ্য সঠিক নয়। উপযুক্ত শিক্ষক পাওয়া পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা কার্যক্রম পিছিয়ে রাখলে কোনো সমস্যা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


তালেবান প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জাকির নায়েক বলেন, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা চালু রয়েছে। নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের অভাব এবং নারী শিক্ষকের সংকটের কারণে উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া আফগান নারীরা ইসলামি শিক্ষা ও শরিয়াহ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জাকির নায়েকের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন মালালা ইউসুফজাইয়ের বাবা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে পরিচিত একজন ইসলামি বক্তার কাছ থেকে তালেবানের মেয়েদের শিক্ষাবঞ্চিত রাখার নীতিকে যুক্তিসংগত হিসেবে উপস্থাপন করা হতাশাজনক। অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞাকে সাময়িক স্থগিতাদেশ হিসেবে তুলে ধরা এবং নারী শিক্ষকের সংকটের কথা বলে তা সমর্থন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য নারীদের ওপর তালেবানের পদ্ধতিগত নিপীড়নকে বৈধতা দেওয়ার শামিল। তিনি একে গুরুতর অন্যায় বলে উল্লেখ করেন।
জাকির নায়েকের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন নির্বাসিত আফগান সংসদ সদস্য মারিয়াম সোলাইমানখিলও। ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, জাকির নায়েকের যুক্তি অনুযায়ী, আফগান মেয়েদের শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞা নেই; তারা শুধু নারী শিক্ষকের অপেক্ষায় রয়েছেন। অথচ তালেবানই নারী শিক্ষকদের কাজ করার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।

ভারতীয় ইতিহাসবিদ রুচিকা শর্মাও এ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ না করে প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিদের এমন অবস্থান নেওয়া মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনকে উপেক্ষা করার শামিল।
জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে আফগানিস্তানে ২৬ লাখের বেশি মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আফগানিস্তানই বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে মেয়েদের ও নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা কার্যত বন্ধ রয়েছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, একটি দেশের ইতিহাসে পাঁচ বছর খুব বেশি সময় না হলেও একটি মেয়ের জীবনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ঢাকার হলি আর্টিজান হামলায় জড়িত এক হামলাকারী জাকির নায়েকের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসার পর তিনি ভারত ছাড়েন। ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ায় চলে যান তিনি।


সূত্র: এনডিটিভি


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ