রংপুরের দুই আসনে নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা।
ফল ঘোষণার পর শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে হারাগাছ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ, থানা ঘেরাওয়ের ঘোষণা এবং কাউনিয়া ও পীরগাছায় বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নির্বাচন-পরবর্তী এই অচলাবস্থায় পীরগাছা ও পীরগঞ্জ উপজেলায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার হক বাজারে শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভরসার কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ করেন। তারা হারাগাছ-রংপুর সড়ক অবরোধ করে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।
শনিবার সকালে আবারও সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা হারাগাছ থানা ও কাউনিয়া ঘেরাও কর্মসূচিও পালন করবেন।
এদিকে, শুক্রবার রাতে ফেসবুক পোস্টে নির্বাচিত প্রার্থী আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা হারাগাছ এলাকায় তার দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। মাইকিং করে এনসিপির কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর, বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতারা। তাদের দাবি, এনসিপির কর্মীরাই নিজেদের মধ্যে ভাঙচুর করে বিএনপির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন।
পুনর্গণনার দাবিতে শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন এমদাদুল হক ভরসা।
তার দাবি, বেলা ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে ‘মব সৃষ্টি’ করে ফলাফল প্রভাবিত করা হয় এবং প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভোট সন্দেহজনকভাবে বাতিল করা হয়েছে। পুনর্গণনা হলে প্রকৃত ফলাফল বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সঠিক বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
অন্যদিকে, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। তারা উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে ফল পুনর্গণনার দাবি জানান।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ ভোট।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক চোহান জানান, হাজারো মানুষ সড়ক অবরোধ করায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।