ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ১৬০ কেজি গাঁজা ৭ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্তরা হলেন নবীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান ও কনস্টেবল আবু কাউছার। যদিও অভিযোগের মূল তীর এসআই জাহিদের দিকে, তবে ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা ঘিরে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
থানার একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নবীনগরের সোহাতা-রসুল্লাবাদ সড়কের কানাইবাড়ি মোড়ে এসআই জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একটি পিকআপ ভ্যান থামানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে ওই পিকআপ থেকে প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তবে নবীনগর থানায় এ বিষয়ে কোনো জব্দ তালিকা, মামলা নম্বর বা আলামত সংরক্ষণের আনুষ্ঠানিক নথি পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা থেকে নবীনগর হয়ে ঢাকাগামী ওই পিকআপ ভ্যানে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল।
ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ফাঁস হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দ্রুত ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নবীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান ও কনস্টেবল আবু কাউছারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার আবদুর রউফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।