২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইউটিউব দেখে টমেটো চাষ, ৪ মাসে বিক্রি কোটি টাকার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ০৪-০১-২০২৬ ০৫:৪৮:২২ অপরাহ্ন
ইউটিউব দেখে টমেটো চাষ, ৪ মাসে বিক্রি কোটি টাকার

ইউটিউব দেখে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার যুবক মনির হোসেন। উপজেলার চাঁনগাছা গ্রামের এই বাসিন্দা এতে সাফল্য পেয়েছেন অভাবনীয়। মাত্র চার মাসেই বিক্রি করেছেন কোটি টাকারও বেশি টমেটো।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে টমেটোর বাগান জুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল টমেটো।

 
প্রতিদিন স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার নিমসারসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকেই টমেটো কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

 

আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে মনিরের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। এ সময় মনির জানান, চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম দিকে ইউটিউব দেখে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে আগ্রহী হন তিনি। এরপর গ্রামের আশপাশে ছয়টি প্লটে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে মঙ্গল রাজা ও শাহু  জাতের টমেটোর চারা রোপণ করেন।

 
এর দুই মাসের মধ্যেই গাছে ফুল আসে। অল্প সময়েই গাছগুলো ভরে ওঠে টমেটোতে।

 

মনির আরো জানান, প্রতি বিঘা জমিতে তার উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ১১ লাখ টাকা। জুনের শেষ দিকে চারা রোপণের পর আগস্টের শেষ দিক থেকেই তিনি ফসল তুলতে শুরু করেন।

 
এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৫০ টনেরও বেশি টমেটো বিক্রি করেছেন। তাঁর বাগানে নিয়মিত ২৬ থেকে ২৭ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

 

মনির বলেন, আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে টমেটোর উৎপাদন কম থাকে।  তাই এই সময় টমেটোর দাম ভালো পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতিদিন আমার বাগানের গড়ে এক টনেরও বেশি টমেটো বিক্রি হচ্ছে।

 
শুরুতে কেজিপ্রতি দেড় শ টাকা দাম পেলেও বর্তমানে শীতকালীন টমেটো বাজারে আসায় কেজিপ্রতি প্রায় ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

বাগানে উপস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, এটি মূলত গ্রীষ্মকালীন সবজি হলেও গাছের বর্তমান অবস্থা দেখে ধারণা করা যায়, পুরো শীত মৌসুমজুড়েই ভালো ফলন পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা আফরিনা আক্তার ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান ইতোমধ্যে বাগান পরিদর্শন করেছেন।

কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শের পাশাপাশি মনিরকে বিপণন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়াতে ৫০ শতাংশ জমিতে পলিনেট হাউজ স্থাপনের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাজার সম্প্রসারণে নানা ধরনের প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আশা প্রকাশ করে মনির বলেন, গাছগুলো এখনও সতেজ ও ফলনে ভরা। আরো কিছুদিন ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি। শীতের শেষ দিকে স্থানীয়ভাবে টমেটোর সরবরাহ বাড়লে তখন দাম কিছুটা কমতে পারে।

 
 
 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ