২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

​মঈনুদ্দীন খান তানভীর

ইসলামপন্থীদের ঐক্যভাবনা: চলমান দ্বিধা সংশয় নিরসন প্রসঙ্গে ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি

আপলোড সময় : ২৫-০৮-২০২৫ ১১:৫৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
ইসলামপন্থীদের ঐক্যভাবনা: চলমান দ্বিধা সংশয় নিরসন প্রসঙ্গে ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি
রাজনৈতিক ঐক্যে জামাতের ব্যাপারে কোন দলের কী অবস্থান ছিল- এ বিষয়ক ভিডিও বক্তব্য দিলাম কয়েকদিন।
কেন? কারণ, ঐক্য না হবার অজুহাত হিসেবে বলা হচ্ছে, আইএবি কারো সাথে পরামর্শ না করেই জামাতের সাথে মিলে গিয়েছে। সেজন্য ঐক্যের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে।

অথচ এখানে স্পষ্ট ২টা মিথ্যাচার ও অপবাদ আরোপ হচ্ছে।
প্রথমত: জামাতের সাথে মিলে যাওয়া মানে কী? এরকম কিছুই হয়নি। অন্যান্য ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক দলগুলোর মত তাদের সাথেও বৈঠক হয়েছে। আলাপ আলোচনা হয়েছে। এ-ই যা! 

এক্ষেত্রে জমিয়ত, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন ও নেজামে ইসলাম পার্টিই কেবল নয়; মিটিং হয়েছে বিএনপি, এনসিপি, গণ পরিষদ, এবি পার্টির মত দলগুলোর সাথেও।
এক্ষেত্রে আইএবি'র ঘোষণা সুস্পষ্ট। তারা বলেছেন- পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশে একটা সুষ্ঠু ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ধারা তৈয়্যারে ইসলাম দেশ ও মানবতার কল্যাণ- এই ৩ ভিত্তিকে সামনে রেখে যারাই অগ্রসর হবে। সবাইকে স্বাগত। কোন বামপন্থী দলও যদি একমত হয়। তারাও এ প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে।
বিশেষত ইসলামপন্থীদেরকে এক প্লাটফর্মে আনার জন্য সর্বোচ্চ উদারতা ও আন্তরিকতা দেখিয়েছে আইএবি। 
এটি কি জোট?
বাস্তবতা হচ্ছে, এটি গতানুগতিক কোন জোট নয়; মূলত সমঝোতা। ইসলামপন্থীদের ভোটগুলো যেন ইতি উতি নানাভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে সামগ্রিক অর্থে নিষ্ফল না হয়। উম্মাহর কল্যাণে কাজে লাগে। ইসলামী দলগুলো লাভবান হয়। রাজনীতিটা আরো ফলপ্রসূ হয়। সেজন্য বেশি না পারলেও অন্তত ইসলামপন্থীদের ভোটের বাক্স একটা দেয়া।
যেখানে যার ভাল অবস্থান আছে। সেখানে সেই সংগঠনকে অগ্রাধিকার দেয়া। এ দাবি তো আপামর জনসাধারণের। বহুদিনের।
আলহামদুলিল্লাহ, সেভাবেই এগুচ্ছিল। অন্যান্য দলগুলোও তাতে যথেষ্ট আন্তরিকতার প্রমাণ ও প্রচেষ্টা রাখছিল।
বিপত্তি বাধলো জাস্ট ২/১ টা দলের কারণে। 
তারা ঐক্যে না আসুক। সমস্যা নাই। বিএনপি না; প্রয়োজনে আওয়ামীলীগের সাথেও জোটবদ্ধ হোক। এটা একান্তই তাদের ব্যাপার। 
এরা বিনীতভাবে অপারগতা প্রকাশ করে পিছিয়ে গেলে, নিজেদের মত আগালে, বা ভিন্ন কোন পলিসি গ্রহণ করলে কারো কোন আফসোস হতো না।
অবাক হয়ে দেখা গেল, এরা উল্টো অপবাদ দেয়া শুরু করলো। ঐক্যপ্রয়াসী দলটিকেই উল্টো ঐক্যবিনাশী বলে মিথ্যাচার চালিয়ে যেতে লাগলো।
আমার ধারণা, দিন যত যাবে, একে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালানো হবে। কেন রে ভাই, লোকলজ্জার ভয় নাহয় না-ই করলেন; এতবড় মিথ্যাচার অপপ্রচার ও অপবাদ আরোপের সময় তো অন্তত আল্লাহর ভয় কাজ করার কথা!

এটা বিশেষভাবে দেখি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ নোমান ভাইয়ের ওয়ালে। তিনি ধারাবাহিক মিথ্যাচার চালিয়ে যান। কমেন্টে জিজ্ঞেস করলাম, যে দলের আমীর ঐক্যবদ্ধ হবার জন্য জানপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, সে দলেরই কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন, ব্যাপারটা কি ঊর্ধ্বতন কারো নজরে আসে না? এরপরই তিনি পোস্টটি কেটে দেন। এ আইডিকে ব্লক দেন। কিন্তু সে পোস্টটি শতশত কপি হয়। 

অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, এবারের চরমোনাই মাহফিলে ওলামা সম্মেলনে সর্বোচ্চ উদারতা ও আন্তরিকতার সাথে ঐক্যপ্রক্রিয়া ও ঐক্যের যে রূপরেখা আমীরে মজলিসে পেশ করেছিলেন, তাতে ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেই অবাক হয়েছিলাম। তাতে তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন- আমরা প্রথমে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হব। এরপর যাব আহলে হাদীস ভাইদের কাছে। এরপর নেব সুন্নী ভাইদেরকে। তারপর যাব জামাতের ভাইদের সাথে।...
পরে দেখলাম, ওমা! সেইম অপপ্রচার চালাচ্ছে আরো একটি দল। তাদের হাজার হাজার আইডি। মূলত সেজন্যই তৎকালীন সবার অবস্থানগুলো নিয়ে লিখলাম এ কয়দিন।

লেখা লম্বা হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য দ্বিতীয় কারণটি আজ এড়িয়ে গেলাম। 
তবে সংযুক্তি হিসেবে একটা কথা না বললেই নয়। তাহলে কি বহুল প্রত্যাশিত ঐক্য হবে না? আমরা আশাহত?
মোটেও না। আমরা শতভাগ আশাবাদী। 

ইনশাআল্লাহ, এবার  ঐক্য হবে। ২/৪ জন এদিক সেদিক হতে পারেন। এটা স্বাভাবিক। আশা করি, অন্যদের উপর এর তেমন কোন প্রভাব পড়বে না।
কারণ, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইসলামপ্রিয় তাওহীদি জনতার অত্যুচ্চ প্রত্যাশার নূন্যতম মূল্যায়ন যদি আমরা না করতে পারি। এ সুযোগে ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামী রাজনীতির একটা শক্ত ভিত তৈরি করতে না পারি, "হুজুরদেরকে ভোট দিয়ে ভোটটা পচিয়ে লাভ নাই, মিলাদ খতম দাওয়াত আর জানাযা ছাড়া হুজুররা কোন কামের না। উনারা কেন রাজনীতি করবে?"- এসব তাচ্ছিল্যমূলক ধ্যান ধারণা ও কথাবার্তা বন্ধের উপক্রম করা না যায় তবে সে আফসোস বইতে হবে বহুদিন।
ভারত পাকিস্তানের আকাবির ওলামায়ে কেরামের মতো একতাবদ্ধ হয়ে একটা ভালো ফলাফল ঘরে তোলার যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবার, তা আবার ফিরে আসতে আরো কত যুগ যে অপেক্ষা করতে হবে, আল্লাহ মালুম।

আরেকটা কথা খুব দৃঢ়ভাবেই মনে করি, একতাবদ্ধ হয়ে ফেল করলেও তাতে সুদূরপ্রসারী ফায়দা আছে ইসলামপন্থীদের। যা যুগযুগ ধরে লেজুড়বৃত্তি আর পরনির্ভরশীলতার চাইতে বেশি ফায়দাজনক। সামগ্রিকভাবে তো বটে; দলগুলো নিজেদের সাংগঠনিক সম্মৃদ্ধি বিস্তৃতি ও মজবুতির দৃষ্টিকোণেও বেশ লাভবান হবে। ইনশাআল্লাহ। 

আর আল্লাহ চাইলে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বোচ্চ মেহনত করতে পারলে একটা ভাল ফলাফল আসবে, সে আশা তো করাই যাই, নাকি?
আল্লাহ আমাদেরকে আশিদ্দাউ আলাল কুফফার আর রুহা

মাউ বাইনাহুম এর সাহাবাওয়ালা গুণ দান করুন। দ্বীন বিজয়ের কাজ খুলুসিয়ত হিম্মত হিকমত ও দরদের সাথে এগিয়ে নেয়ার তাওফিক দিন। আমীন।

লেখক : কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক [সিলেট বিভাগ] জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ
 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ