তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, অনেক বছর পর এবার প্রকৃত ভোট হবে। যেখানে সরকারের কোনো পক্ষের কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই।
আজ শনিবার সকালে সিলেট প্রেসক্লাবে পিআইবি আয়োজিত ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমরা যে ভোটের আয়োজন করছি, মনে রাখতে হবে— প্রায় ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বিভিন্নভাবে আতঙ্ক তৈরি করছে পরাজিত শক্তি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেহেতু সেই অপশক্তিকে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে, তাই বাকি চ্যালেঞ্জগুলোও সরকার সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারবে। এজন্য শুরু থেকেই সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ভোটের সময় বিভিন্ন জায়গাতে কিছুটা রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার সুষ্ঠু ভোটের পাশাপাশি জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়। একই সঙ্গে গণভোট ও প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ব্যুরো চিফ খালেদ আহমদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, মানুষ নির্ভয়ে জেনে-বুঝে ভোটাধিকার যেন প্রয়োগ করতে পারে, সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে। নির্বাচন সুষ্ঠু, উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক হোক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সরকার এবং গণমাধ্যম একসঙ্গে মিলে ভোটের যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলায় জনমত গড়ে তুলতে পারে।
অনুষ্ঠানে তথ্য মন্ত্রণালয়, পিআইবি’র কর্মকর্তা এবং সিলেট প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন পিআইবির সিনিয়র প্রশিক্ষক মো. শাহ আলম। প্রশিক্ষক ছিলেন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক জিয়াউর রহমান। দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনে প্রশিক্ষণ দিবেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ডেপুটি এডিটর সুলতান মাহমুদ। প্রশিক্ষণে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করা সিলেটের ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।