২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বিভাগীয় ইজতেমা : দাওয়াতের ময়দানে নতুন র্সূযদয়

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ
আপলোড সময় : ১১-১২-২০২৫ ০৯:০৯:৩৭ অপরাহ্ন
বিভাগীয় ইজতেমা : দাওয়াতের ময়দানে নতুন র্সূযদয়
আজ ও আগামী কাল ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর বিভাগীয় ইজতেমা শুরু হবে। প্রতিটি ইজতেমার আয়োজন অনেক বৃহৎ । ৪/৫ লক্ষ করে উপস্তিতি হবে ইনশাআল্লাহ। আগামী সাপ্তাহে ৩বিভাগের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ্।
 
ইজতেমা মূলত একটি মেহনতের নাম। একদল মানুষ দ্বীনের মেহনত করতে করতে একত্র হয় আর আরেক দল মানুষ দ্বীনের দাওয়াত নিযে আল্লাহর রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ে। এটি কোন জলসা বা মহা সমাবেম নয়। তাই ইজতেমার আগের খুরুজ বা মেহনতকে ইজতেমার জান বলা হয়, আর পরের মেহনতকে ইজতেমার শান বলা হয়। আমাদের দেশে দেশে বিশ্ব ইজতেমা ও জেলা ইজমো হয়।
 
এই বছর ইতিহাসে প্রথম বিভাগীয় র্পযায়ে ইজতেমা হচ্ছে। যে বছর বিভাগীয় ইজতেমা হবে এই বছর জেলা ইজতেমা হবে না। বিভগীয় ইজতেমায় নিজামুদ্দীন মারকাজের মুরুব্বিগনও উপস্থিথ থাকবেন ইনশাআল্লাহ।
 
দাওয়াত ও তাবলীগের আলমী মারকাজ দিল্লীর বাংলাওয়ালী মসজিদ নিজামুদ্দীন মারকাজের তত্ত্বাবধানে এসব ইজতেমা থেকে অগণিত মানুষ দাওয়াতের মেহনত নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশ থেকে দেশান্তরে। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামদের নিয়ে দ্বীনের মেহনত করতে করতে হজে¦র মৌসুমে একত্র হয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীনী মেহনত ও আল্লাহর রাস্তায় খুরুজের জন্য সাহাবায়ে কেরাম [রাযি.] -কে এভাবে জমা করে তাশকিল করতেন।
 
হযরত খোলাফায়ে রাশেদার আমলেও এমন ইজতেমার আয়োজন ব্যাপকভাবে ইতিহাসে পাওয়া যায়। সেখান থেকে তারা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করতে দ্বীনের মেহনত নিয়ে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছেন। এর আদলেই মূলত তাবলীগী ইজতেমার সূচনা। মুবাল্লিগরা মেহনত করতে করতে ইজতেমায় জড়ো হন, আবার এখান থেকে দ্বীনী দাওয়াতের তাকাজা নিয়ে দুনিয়ার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েন।
 
আল্লাহর পথের অমর দাঈ হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভী [রহ.] যখন দুবারা প্রথম যমানার হীরকখ-ের এই নববী মেহনত শুরু করেন, তখন মেওয়াত ও দিল্লীর আশপাশে এরকম বহু ইজতেমা প্রতি বছর চালু করেন। ইজতেমাকে ঘিরে মেহনত নব উদ্যোমে প্রাণের সাড়া ফেলতো। দলে দলে লোক আল্লাহর রাস্তায় বের হতো। দ্বিতীয় বিশ্ব আমীর হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী [রহ.] তাবলীগের সফরে এ রকম ব্যাপকহারে নানান দেশে ইজতেমার আয়োজন করে সারা দুনিয়ায় জামাত পাঠাতে শুরু করেন।
 
দাওয়াত ও তাবলীগের বর্তমান বিশ্ব আমীর শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহাম্মদ সা’দ কান্ধলভী [দা.বা.]-এর নিক-নির্দেশনায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী টঙ্গীর ইজতেমার আদলে বাংলাদেশে যখন থেকে জেলা ইজতেমা শুরু হয়, তখন থেকে সারাদেশে এক উৎসবমুখর পরিবেশে ঈমানী চেতনায় বলিয়ান হয়ে দাওয়াতের কর্মীরা এই ইজতেমায় সাধারণ মুসল্লীদের নিয়ে শরীক হচ্ছেন। এই ইজতেমার ফলে দলে দলে লোক আল্লাহর রাস্তায় বের হচ্ছে। বাংলাদেশের খুরুজের অবস্থান অনেক আগে বেড়েছে।ইজতেমাকে ঘিরে আগের মেহনতকে বলা হয় ইজতেমার শান, আর ইজতেমার পরের মেহনত এ কাজের শান। ইজতেমার আগে আল্লাহর রাস্তায় অসংখ্য জামাত বের হয়ে মেহনত করে, আবার ইজতেমা থেকে আরেকদল আল্লাহর রাস্তায় বের হচ্ছে।
 
একেবারে নববী ধারায় সাদামাটা আয়োজনে এসব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নেই কোন চাঁদা কালেকশন, মাইকিং ও পোষ্টার। কিন্তু স্বেচ্ছাশ্রমে বিশাল আয়োজন আর দ্বারে দ্বারে, ঘরঘর মেহনতে লাখো মানুষ জড়ো হচ্ছে এসব ইজতেমায়। কোথাও কোথাও প্যান্ডেল-সামিয়ানা ছাড়াই সাদামাটা আয়োজনে খোলা আকাশের নিচে সাহাবায়ে কেরামের মতো অগণিত আল্লাহর বান্দা ইজতেমায় শরীক হয়েছেন। স্থানীয় মুবাল্লিগ, জেলার শূরা হযরত ও আমীর সাহেবদের পাশাপাশি আহলে কাকরাইলের মুবাল্লিগ উলামায়ে কেরাম ও জিম্মাদার সাথীগণ রাতদিন বিরামহীনভাবে ইজতেমার জন্য মেহনত করছেন। একেকটি ইজতেমার নানান আমল ও নজম সফলতার সাথে আঞ্জাম দিচ্ছেন।
 
আল্লাহ তা‘আলা এসব মুখলিস দাঈদের ত্যাগ ও কুরবানীর জরিয়ায় হেদায়াতের হাওয়াকে আম করুন। এই মেহনত-মুজাহাদাকে কবুল করুন। আমীন।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ