মামুনুল হকের ইসলামী জোটের নির্বাচন সমীকরণ: বিজয় নিশ্চিত যেসব কারণে
ঢাকা-১৩ আসনে জমজমাট লড়াই হবে যদি সত্যি সত্যি মামুনুল হক সাহেব শেষ পর্যন্ত জামায়াত জোট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ান আর জামায়াতের মোবারক হোসেন যদি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।
মোহাম্মদপুরে মামুনুল হক সাহেবের মাদ্রাসার বয়স অনেক বছর। ওনার বাবা জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত ব্যাক্তি, জামায়াতের সাথে একবার জোট করেছিলেন। মোহাম্মদপুর জুড়ে ওনার অনেক ছাত্র এবং ছাত্রের অভিভাবক আছে। ওনার নিজের যে রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে মানুষ তেমন একটা চিনে না, তার দলের ভোট তেমন একটা নেই। তবে মামুনুল হক সাহেব পারসোনালি অনেক জনপ্রিয়। এ কারণে বেশ কিছু ঘটনা ঘটতে পারে যেমন
১-জামায়াত প্রার্থীতা ছেড়ে দিলে জামায়াতের ভোট মামুনুল হক সাহেব পাবেন। ধরে নিচ্ছি এই ভোট হবে ১০%
২-আওয়ামীলীগ যেহেতু মাঠে নেই তাই সফটকোর আওয়ামীলীগের ভোট তিনি পেতে পারেন। ধরে নিচ্ছি এই সংখ্যা হবে ১৫%
৩-আম জনতার ফ্লোটিং ভোট পাবেন ধরলাম আরো ১০%
মোট ৩৫% ভোট পেলেই বাংলাদেশে নির্বাচনে জেতা যায়। এছাড়া আরেকটা ফ্যাক্টর আছে সেটা হলো মোহাম্মদপুর বিএনপি! কী সেই ফাক্টর?
৪- মোহাম্মদপুর বিএনপি থেকে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে কোনো এমপি নেই। যেসব এমপি মোহাম্মদপুর থেকে হয়েছিলেন তারা বাইরের লোক। এদিকে মোহাম্মদপুরে বিএনপির এমপি নির্বাচন করার মত বেশ কয়েকজন নেতা আছে যারা এনডিএম নেতা ববি হাজ্জাজকে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়ায় অখুশী। এই অখুশী অংশের পরিমান অনেক। নির্বাচনী প্রচারণায় এই অংশটা যদি ইনেক্টিভ থাকে তাহলে ববি হাজ্জাজ বিএনপির একটা অংশের ভোট নাও পেতে পারেন। এই ফ্যাক্টরটা মাওলানা মামুনুল হককে জিতিয়ে দিতে পারেন।
৫-ঢাকা-১৩ আসনটা ৩ টা থানা নিয়ে গঠিত- শেরেবাংলা, মোহাম্মদপুর ও আদাবর। এর মধ্যে শেরেবাংলা নগরে ভোটার থাকে না বললেই চলে। এখানে সব হাসপাতাল ও অফিস। আবাসিক এলাকা খুবই কম। মূল ভোটার মোহাম্মদপুর ও আদাবরের। তবে মোহাম্মদপুরের চেয়ে আদাবরের ভোটার বেশি। মোহাম্মদপুরের স্থানীয় মানে বাড়ির মালিকরা বেশিরভাগ আমেরিকা ইউরোপে থাকে। দেশে থাকলেও এদের ভোটের প্রতি আগ্রহ কম। একেকজনের ২/৩ টা করে বাড়ী আছে। যেমনে আমার ভবন মালিকেরা ৩ ভাই, বাড়ী আছে ৫ টা। দেশে থাকেন একজন মাত্র, তাও ধানমন্ডীতে। ওনার ভোট দেয়ার সম্ভাবনা জিরো %
তাহলে মূল ভোটার কোথায়?- উত্তর হলো আদাবর। এই আদাবর হলো সন্ত্রাস কবলিত এলাকা। আপনারা যে মোহাম্মদপুরকে নিয়ে ট্রল করেন তার মূল এলাকা হলো আদাবর থানা। আর এই আদাবরে লাস্ট সোয়া ১ বছরে যা ঘটছে তাতে বিএনপি অনেক কম ভোট পাবে। আবার মামুনুল হক সাহেবের ও ওনার ছাত্রদের মাদ্রাসাগুলো সব আদাবর ও বসিলা কেন্দ্রীক। প্রচারনার দিক দিয়ে তিনি ভালো সুবিধা পাবেন।
তবুও আমি ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হক সাহেবের বিজয়ের ব্যাপারে ৬০/৪০ চান্স ধরে রেখেছি। মানে ওনার বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি মনে হচ্ছে। এই আসনে জামায়াত দাঁড়ালে জেতার সম্ভাবনা ছিল না। সেই হিসেবে মাওলানা মামুনুল হক সাহেব ঠিকই আছে। সবচেয়ে বড় কথা মামুনুল হক সাহেব জীবনেও চাঁদাবাজির প্রশ্রয় দিবেন না। মোহাম্মদপুরের আরেক সমস্যা- বাড়ী দখল, প্লট দখল। এসব বিষয়ে তিনি জিরো টলারেন্স দেখাবেন বলে আম জনতা বিশ্বাস করবে।সাইফুল ইসলাম
কমেন্ট বক্স