২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

পানের বাজার মন্দা, ক্ষতির মুখে কৃষক

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ২৭-১১-২০২৫ ০৫:৪৯:২৬ অপরাহ্ন
পানের বাজার মন্দা, ক্ষতির মুখে কৃষক

বাগেরহাটের ফকিরহাটে পানের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন পান চাষিরা। একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, অন্যদিকে পানের দাম কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে পান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তারা। অনেকে বরজ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া, ফকিরহাট সদর বাজার ও মানসা বাজার ঘুরে পানের দরপতনের এই খবর জানা যায়। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বাড়লেও দাম কমে অর্ধেকে নেমেছে বলে দাবি চাষিদের। এতে অনেকে এই পেশা ছাড়ছেন বলে জানান চাষিরা।

ফকিরহাটে অবস্থিত দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পানের বাজার টাউন নওয়াপাড়ায়  প্রত্যেক রবি ও বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত পানের হাট হয়।

প্রতি হাটে এখানে গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার কুড়ি (এক কুড়িতে পাঁচ হাজার ১২০টি) বিক্রি হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে টাউন নওয়াপাড়া পানের হাটে সরেজমিন দেখা যায়, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কর্মব্যস্ততা। চাষিদের তিন ধরনের (গ্রেড) পান কিনছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা। প্রতি কুড়ি (৫১২০টি) বড় পান আট থেকে ১১ হাজার টাকা, মাঝারি পান তিন থেকে চার হাজার টাকা এবং ছোট পান ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে হাটে পাইকার গত বছরের তুলনায় অনেক কম দেখা গেছে।

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর একই সময় প্রতিকুড়ি বড় পান ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা, মাঝারি পান ১০ থেকে ১৩ হাজার টাকা এবং ছোট পান তিন থেকে চার হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ছোট পান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

উপজেলার শামবাগাত গ্রামের পানচাষি আবু সাইদ, বালিয়াডাংগা গ্রামের আজহার শেখ, পিলজংগ গ্রামের মামুন সরদার, টাউন নওয়াড়া গ্রামের নিতাই বাগদীসহ কয়েকজন কৃষক জানান, গতবছরের চেয়ে এ বছর বরজের কাজে ব্যবহৃত উলু, সলাকা, হাড়ি (বর্গা জমি) খরচ, খৈল ইত্যাদির দাম প্রায় দেড়গুণ বেড়েছে। 
অন্যদিকে পানের দাম গতবারের চেয়ে অর্ধেকের কম।

ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তারা পানচাষ ছেড়ে দিয়েছেন। উপজেলার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কৃষক পান চাষ ছেড়ে বিকল্প চাষের দিকে ঝুঁকছেন বা পান চাষে জমির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

পানচাষি সনাতন দাস, জামাল শেখসহ অনেকে জানান, বরজে ছোট ও কুচা পান নষ্ট হচ্ছে। শ্রমিকের দাম উঠবে না বলে তারা না কেটে ফেলে রেখেছেন। এতে পান বরজেই নষ্ট হচ্ছে। মূলত রপ্তানি ও পাইকারদের পান কেনা কমে যাওয়ায় পানের বাজারে ধস নেমেছে। এতে চাষিরা বরজ করা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানান তাঁরা।

একাধিক পাইকারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এ হাট থেকে পান নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে বিক্রি করেন। কিন্তু এবছর ওইসব মোকামে পানের চাহিদা কম। বিদেশে রপ্তানিতের ভাটা লেগেছে। ফলে তারাও পান কিনতে আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন।

ফকিরহাট কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলায় এবছর চার হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন পান উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি। এক হাজার ১১২ একর জমিতে ছোট বড় মিলে তিন হাজার ৯০০টি পানের বরজ রয়েছে। ফকিরহাটে তিন হাজার ১৫০ জন কৃষক পান চাষ করেন। তবে পান চাষ ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পান চাষের সর্বোচ্চ উৎপাদনের সময় হলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। এ সময় সাধারণত পানের দাম কম থাকে। কিন্তু এ বছর নভেম্বর মাসেও পানের দাম তুলনামূলক কম। পান চাষে কৃষকদের প্রণোদনা সহায়তার কোনো প্রকল্প ফকিরহাটে নেই। তবে কৃষি অফিস থেকে তাদের পান চাষের বিষয়ে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়।

বাগেরহাট জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম তরফদার বলেন, ‘বিদেশে পান রপ্তানি কমে যাওয়া, উৎপাদন বৃদ্ধি, পান কেনা পাইকার কম, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াসহ নানা কারণে পানের দাম কমতে পারে। এটি শিল্পপণ্য না হওয়ায় অতটা ফোকাস পাচ্ছে না।

 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ