জন্মের ৩ বছরের মাথায় বিয়ের পর বাবা হয়েছেন হাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। এ কারণে ছেলের বয়সের সঙ্গে তার বয়সের পার্থক্য মাত্র ৩ বছর। শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে। অর্থের বিনিময়ে বয়স জালিয়াতি করে সন্তানের থেকে তিন বছরের বড় এক পিতা নিয়েছেন গ্রামপুলিশের চাকরি।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন উপজেলা রৌমারী। এই উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন যাদুরচর গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান। সংসার জীবনে তার রয়েছে স্ত্রী, দুই ছেলে আর এক মেয়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু হাফিজুর নয়, গত আগস্ট মাসে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১৯ জন গ্রামপুলিশ নিয়োগ করা হয়। যাদের জনপ্রতি প্রায় চার লাখ টাকা করে গড়ে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সিন্ডিকেট চক্রটি।
এর আগে গত ৬ মে রৌমারী উপজেলা প্রশাসন চলতি বছরের যাদুরচর ইউনিয়নে দুইজন, দাঁতভাঙা ইউনিয়নে সাতজন, রৌমারী ইউনিয়নে পাঁচজন, বন্দবেড় ইউনিয়নে চারজন এবং শৌলমারী ইউনিয়নে একজন গ্রামপুলিশ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়।
তথ্যানুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্রে শেষে ২৩০ নম্বর ভোটারে যাদুরচর ইউনিয়নের পুরতান যাদুরচর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস ছামাদ-দরদী বেগম দম্পতির ছেলে হাফিজুর রহমান। সেখানে হাফিজুরের বয়স ৭ মে ১৯৮৫সাল। তিনি চলতি বছরের ২৭ মে জন্ম নিবন্ধন করেছেন।
ওই ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রবিউল হক বলেন, হাফিজুর রহমানসহ তার স্ত্রী, সন্তান সবাই এই ওয়ার্ডের ভোটার। কিন্তু এখন জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে বয়স জালিয়াতি করে হাফিজুর রহমান গ্রামপুলিশের চাকরি নিয়েছেন। অথচ তার এনআইডি কার্ড রয়েছে। বয়স জালিয়াতি করে চাকরি তো আর এমনি এমনি কেউ দেয় না? এখানে অবশ্যই মোটা অংকের লেনদেন হয়েছে।
সদ্য নিয়োগ পাওয়া নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক গ্রাম পুলিশ বলেন, আমার নিকট চেয়ারম্যান সরবেশ আলী তিন লাখ টাকা নিয়ে চাকরি দিয়েছে। শুনেছি গ্রামপুলিশ নিয়োগে জনপ্রতি তিন থেকে চার লাখ টাকা করে নিয়ে নিয়োগ দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ হাফিজুর রহমান বলেন, ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করছি। ভোটার আইডিতে বয়স ভুল করছে। আমি জন্মনিবন্ধন দিয়ে চাকরি নিয়েছি। কিন্তু জন্ম নিবন্ধনে বয়স সঠিক রয়েছে।
তবে যাদুরচর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সরবেশ আলীর দাবি, হাফিজুর রহমানের স্কুল ও জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে তার চাকরি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জল কুমার হালদার বলেন, বয়স জালিয়াতি করে চাকরি দেওয়া হয়েছে এমন কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখা হবে।