২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার রূপরেখা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ১৫-১১-২০২৫ ০৯:৪৩:৫১ পূর্বাহ্ন
প্রধান উপদেষ্টার রূপরেখা

রাজনৈতিক সংকট যখন তীব্র আকার ধারণ করছিল, সেই মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে সংকট প্রশমিত করার প্রয়াস নিয়েছেন। এ ভাষণে তিনি নির্বাচন ও আগামী দিনের সুষ্ঠু রাজনীতির একটি রূপরেখা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। গণভোটের সময় নিয়ে যখন পরস্পরবিরোধী দুপক্ষ অনড় অবস্থানে নেমেছে, প্রধান উপদেষ্টা তখন সময়টা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নির্বাচনের দিনই একইসঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। যারা নির্বাচনের আগেই গণভোট অনুষ্ঠানের পক্ষে ছিলেন, তাদের আপাতদৃষ্টিতে অখুশি মনে হলেও আমাদের ধারণা তারাও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হবেন। প্রধান উপদেষ্টা বস্তুত রাজনীতির সব পক্ষেরই দাবি মেনে নিয়ে একটা ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা দিয়েছেন। নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে, বিএনপির এ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে যেমন, তেমনি জামায়াতের চাওয়া পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন পূরণ হয়েছে। আবার এনসিপির সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবিও উপেক্ষিত হয়নি। সনদ বাস্তবায়নের আদেশও জারি করা হয়েছে। আবার ৮টি মৌলিক সংস্কারে নোট অব ডিসেন্ট না থাকলেও ১০টিতে থাকবে। অর্থাৎ একটি সমন্বিত রূপরেখা প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণ।

তবে একটি জটিল বিষয়ের মীমাংসার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। গণভোটের ব্যালট পেপারে প্রশ্নটি থাকবে : আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার-সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করবেন? এরপর ৪টি প্রস্তাব তুলে ধরা হবে ব্যালটে এবং ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর ঘরে সিল মারবেন। ভোটার, বিশেষত গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের জন্য পুরো বিষয়টি বুঝে ভোট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। অনেকে পড়তেও পারেন না, তারা মার্কা দেখে ভোট দেন। তারা এতকিছু বুঝে ভোট দেবেন কীভাবে? আরও কথা আছে, একজন ভোটার হয়তো দুটি প্রস্তাব সমর্থন করেন, বাকি দুটি করেন না, তিনি কী করবেন? অথচ প্রশ্নটি যদি এমন হতো, ঐকমত্য কমিশন কর্তৃক গৃহীত সংস্কার প্রস্তাবগুলো আপনি কি সমর্থন করেন, তাহলে সমস্যাটির সহজীকরণ হয়ে যেত। আরেকটি প্রশ্ন কিন্তু উহ্য থেকে যাচ্ছে। গণভোটে ‘না’ জয়যুক্ত হলে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হবে, তা থেকে উত্তরণ হবে কীভাবে? এ বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি।

শত সমস্যার পরও নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এটা এক বড় সুখবর। বস্তুত একমাত্র একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে চলমান সংকট থেকে জাতিকে মুক্ত করতে। আমরা আর কোনো বিকল্প দেখছি না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তরিক ভূমিকায় দেখছি আমরা, রাজনৈতিক দলগুলোকেও আন্তরিক হতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে বড় দেশ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে, বস্তুত এই মতভিন্নতাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু মতভিন্নতা যাতে সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সেদিকে যত্নবান হতে হবে। যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়া গেলেও সেই সরকার বেশিদিন টিকে না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা গ্রহণ করলে সেই সরকার বৈধতার সঙ্গে ভালোভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে। সুতরাং রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশিত রূপরেখার আলোকেই রাজনীতি সাজাতে হবে এবং সেভাবেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে যার যার অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে অস্থিরতা বাড়বে এবং সেই সুযোগে অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। সেটা হবে জাতির জন্য অনেক বড় দুঃসংবাদ।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ