২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

যেভাবে সিলেট বিভাগের জনপ্রিয় নেতা জিকে গউছ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৫ ০৭:৫৭:০৫ অপরাহ্ন
যেভাবে সিলেট বিভাগের জনপ্রিয় নেতা জিকে গউছ
৩৫ বছরের রাজনীতিতে জেল খেটেছেন ১,৫১৭ দিন। জেলে থেকে নির্বাচিত হয়েও বসতে পারেননি মেয়রের চেয়ারে। ছুরিকাঘাত করা হয় জেলের  ভেতরে। আওয়ামী লীগের হামলা-মামলায় স্ত্রী-সন্তানসহ পুরো পরিবার ছিল বিপর্যস্ত।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর ৩৫ বছরের রাজনৈতিক যোদ্ধা জিকে গউছ এখন সিলেট বিভাগের বিএনপি’র জনপ্রিয় নেতা। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত আস্থাভাজন। নিজের নির্বাচনী এলাকায় অসহায়-দরিদ্রদের মাঝে প্রতিদিন বিতরণ করছেন খাদ্য, অর্থসহ নানা সামগ্রী। জেলার বাইরেও বিভাগের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করছেন। নেতাকর্মীদের দিচ্ছেন বিভিন্ন দিকনির্দেশনা।
৫ই আগস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর থেকেই জেলার সকল সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা ছিল গউছের। 
৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এত জেল-জুলুমের পরও কীভাবে টিকে আছেন? তার অনুপ্রেরণা কোথায়? কলেজের ছাত্রনেতা থেকে কীভাবে বিভাগের ক্ষমতাধর নেতা হলেন- এসব ব্যাপারে মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেছেন গউছ।
তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৮৪ সালে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলে যোগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করি। ’৮৫ সালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের সভাপতি নির্বাচিত হই।
ওয়ান ইলেভেনের সরকার আমাকে ৫৯১ দিন দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক রেখেছে। তার মধ্যে সাড়ে ৮ মাস ফাঁসির (কনডেম) সেলে রাখা হয়। সামরিক সরকারের অফার ছিল বিএনপি রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিলে আমাকে কারামুক্ত করে দিবে। তাদের প্রলোভনে সাড়া দেইনি। শহীদ জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। 
২০০৪ সালে আমি হবিগঞ্জ পৌরসভার সর্বশেষ চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০১১ সালে দ্বিতীয়বার কারামুক্ত হয়ে সেনাবাহিনীর অধীনে হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রথম মেয়র পদে নির্বাচনে প্রার্থী হই। 
২০০৫ সালে আমি আমার বাবার সঙ্গে পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরবে ছিলাম। সে সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৯শে আগস্ট হাইকোর্ট থেকে পুনরায় কারামুক্ত হওয়ার পর ঢাকা থেকেই গোয়েন্দা পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে আরেক দফা কারাগারে নিয়ে যায়। পরে আরও ১৫৪ দিন জেলে থাকি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময়ও হবিগঞ্জের কারাগারে বন্দি ছিলাম। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে মুক্ত হই। সর্বশেষ কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালেও অনেকগুলো মামলাতে আসামি করা হয়েছে। আমি আশা করছি, বর্তমান বিজ্ঞ আদালত এগুলো থেকে আমাকে অব্যাহতি দিবেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এ নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে চান না জিকে গউছ। সেজন্যই আওয়ামী লীগ পতনের পর হবিগঞ্জের নেতারা যখন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান তখন তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্য ও জানমালের পাহারা দিয়েছেন বলে জানান। গউছ জানান, আমি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছি। মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করার আপ্রাণ চেষ্টা করি। কখনো প্রতিহিংসাপরায়ণ হবো না।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ