নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার আসাদহাটি গ্রামে ১৮৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাউল ওস্তাদ, কবি ও সাধক জালাল উদ্দিন খাঁ। তার গান শুধু সুর ও তাল নয়, বরং জীবনের গভীর দর্শনকে প্রতিফলিত করে। প্রায় ৫০০-এর বেশি গানে প্রেম, ভক্তি, মানবিকতা ও জীবনের নানা টানাপোড়েনকে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।
শৈশব থেকেই আধ্যাত্মিক পরিবেশে বড় হওয়া জালাল উদ্দিন খাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আসে ১৯২২ সালে যখন তিনি বাউল সাধক রশিদ উদ্দিনের গান শুনেন।
আজ তার শারীরিক উপস্থিতি না থাকলেও জালাল মঞ্চ ও সম্প্রতি আয়োজন করা জালাল মেলা তার স্মৃতি ও সঙ্গীতকে জীবিত রেখেছে। বাউল শিল্পী সালাম সরকার বলেন, ‘জালাল খাঁর গান শুধুই সঙ্গীত নয়, এটি আধ্যাত্মিকতার বার্তা।
জালাল উদ্দিন খাঁ ছিলেন কেবল গায়কই না, জীবনদর্শনের সাধক। তার গানে প্রেম, ভক্তি, মানবিকতা ও সামাজিক চেতনার মেলবন্ধন ফুটে ওঠে। স্থানীয় কবি রহমান জীবন বলেন, ‘তার গানে মানুষ নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পায়।’
তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে জালাল উদ্দিন খাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়।
শতবর্ষ পার হলেও বাংলার গ্রামাঞ্চলে আজও বাজে তাঁরই সুর- ‘মন রে, তুই মানুষ হ, তাহলেই খুঁজে পাবি আল্লাহকে।’
জালাল উদ্দিন খাঁর গান আজো মানুষের হৃদয়ে কথা বলে, সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে চিরন্তন বাংলার আত্মায় প্রবাহিত হচ্ছে।