নারায়ণগঞ্জ আদালতে এক নারীকে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানিসহ তার পরিবারের সদস্যদের মারধরের ঘটনায় গত দুই দিনেও মামলা হয়নি। ভুক্তভোগীদের দাবি, গত দুই দিন ধরে থানা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়েও মামলা হয়নি। শুধু মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নাম থাকার কারণে পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। সাখাওয়াত হোসেন খানের নাম নিয়েই পুলিশের আপত্তি।
তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই মামলা করা হবে। একই ঘটনায় দুটি এজাহার করা হয়েছে। যার কারণে আমরা যাচাই-বাছাই করছিলাম, আসলে ঘটনা কী। ঘটনার সত্যতা আছে, ঘটনা ঘটছে।
ভুক্তভোগী রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘আদালতে হাজিরা দিতে গেলে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে তার জুনিয়ররা ও মুহুরি মিলে আমাদের ওপর হামলা করে। তারা আমার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে এবং আমার শরীর ও লজ্জাস্থানে আঘাত করে শ্লীলতাহানি করে।
তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনায় দুই দিন পার হলেও এখনো পুলিশ মামলা নেয়নি। গত সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত থানা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দৌড়াদৌড়ি করেও মামলা গ্রহণ করানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ বলে মামলা থেকে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নাম বাদ দিতে হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘এটা ঠিক না। যে ঘটনা ঘটেছে, তা নিন্দনীয়। এরপর ভুক্তভোগী মামলা করতে গেলে প্রভাবশালীর নাম আছে বিধায় মামলা নেওয়া হবে না, এটা বাজে দৃষ্টান্ত। মামলা অবশ্যই নিতে হবে, এরপর পুলিশ তদন্ত করে সত্য মিথ্যা বের করবে। কিন্তু প্রভাবশালীদের নাম থাকলে মামলা নেওয়া হবে না, এমন চর্চা থেকে বের হয়ে আসা জরুরি।’
প্রসঙ্গত, গত ২৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ আদালতে রাজিয়া সুলতানা (৩৮) নামের এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধর, শ্লীলতাহানিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে তাদের মারধরে রাজিয়া সুলতানার স্বামী মো. ইরফান মিয়া (৪২), তার ছেলে জিদান (১৭) ও শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ (৫) আহত হয়েছে।