বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গীবাড়িয়া ইউনিয়নের লাহারহাট এলাকায় নদীনির্ভর মান্তা সম্প্রদায়ের মধ্যে গতকাল সোমবার (২৭ অক্টোবর) থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন কয়েকটি পরিবারের হাতে ৩০ কেজি চাল, ১ লিটার তেল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, লবণ ও পেঁয়াজ তুলে দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এই চাল ১১ সেপ্টেম্বর বরাদ্দের পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে মজুদ ছিল। নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিতরণ না হওয়ায় ত্রাণ কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘জেলার তিন শতাধিক মান্তা পরিবারের মধ্যে ধাপে ধাপে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মান্তা সম্প্রদায় আমাদের সমাজেরই অংশ।
তিনি জানান, প্রবীণ মান্তাদের জন্য নিয়মিত ভাতা চালু ও স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের উপবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জন্য নির্দিষ্ট কবরস্থানের জায়গা বরাদ্দের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হাসান।
বরিশাল সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ মান্তা পরিবারের প্রধান জীবিকা মাছ ধরা। কিন্তু তারা তালিকাভুক্ত জেলে না হওয়ায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের সময় জাল ফেলতে পারেন না। এতে তারা তীব্র খাদ্যসংকটে পড়েন।
মান্তা সম্প্রদায়ের অধিকাংশ সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন না থাকায় তারা নানা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। টুংগিবাড়িয়া ইউনিয়নের নরেরকাঠি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোহাগ আকন বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডে দেড় শতাধিক মান্তা ভোটার থাকলেও গত নির্বাচনে ভোট দিতে পেরেছে মাত্র ১০ জন।’
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মনিরুজ্জামান বলেন, ‘১১ সেপ্টেম্বর চাল বরাদ্দ এলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিতরণের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে চাল বিতরণের নির্দেশ থাকায় তার সময় না মেলায় ১১০ বস্তা চাল গুদামেই পড়ে ছিল।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন জানান, বেশির ভাগ মান্তা পরিবার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা সরকারিভাবে জেলে হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। চরবাড়িয়ার ৬৫টি, শায়েস্তাবাদের ২৬টি, চরমোনাইয়ের ১০৫টি, চরকাউয়ার ১০টি এবং টুংগিবাড়িয়ার ১১০টি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। সঙ্গে ডাল ও তেল দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বিতরণে দেরি হয়েছে।