২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপুরে আগুনে পুড়ে ছাই দুই পরিবারের বসতভিটা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ২০-১০-২০২৫ ০১:০১:৩৫ অপরাহ্ন
দুর্গাপুরে আগুনে পুড়ে ছাই দুই পরিবারের বসতভিটা

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের বসতভিটা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন থেকে প্রাণ বাঁচাতে বের হতে গিয়ে আহত হয়েছেন বাসন্তী রানী সাহা (৮০) নামে এক বৃদ্ধা।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে দুর্গাপুর পৌর শহরের সাধুপাড়া এলাকার ধনঞ্জয় সাহা ও গোবিন্দ কুমার সাহার বাড়িতে আগুনের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে।

 

 

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আকাশে কালো ধোঁয়া দেখতে পেয়ে তারা ছুটে যান ঘটনাস্থলে। পরে খবর পেয়ে দুর্গাপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা ও জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

তবে ততক্ষণে ধনঞ্জয় সাহা ও গোবিন্দ কুমার সাহার বাড়ির আসবাবপত্র, জামা-কাপড়, বই-খাতা, কলমসহ সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

 
আগুনের তীব্রতায় পাশের সঞ্জয় সরকারের নতুন নির্মিত বাসার প্লাস্টিকের থাই সিলিং, বৈদ্যুতিক ফ্যান, লাইটসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য দুর্গা রানী সাহা পূজা বলেন, সন্ধ্যায় আমরা পাশের বাসায় কালীপূজার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ শুনতে পেলাম আগুন লেগেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি আমাদের বাড়িতে আগুন জ্বলছে।

 
আমি মাকে বললাম দাদুকে দ্রুত বের করে আনতে, কারণ দাদু হাঁটতে পারেন না। আমরা কিছুই ঘর থেকে বের করতে পারি নাই। আমার বই-খাতা, এমনকি বিয়ের জন্য জমানো গহনাও পুড়ে গেছে। এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু আগুনে পুড়ে গেছে তার বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র।
 
ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।

 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আরেক সদস্য নিলি সাহা বলেন, সন্ধ্যার পর পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ রান্নাঘর ও বারান্দার দিক থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে আমার শাশুড়ি চিৎকার করেন। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে যায়। কোনো কিছুই বের করতে পারিনি, পরনের এক টুকরো কাপড়ও নেই। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আমরা কোনোমতে জীবন নিয়ে বের হতে পেরেছি। আমার শাশুড়িও আহত হয়েছেন। এখন আমরা একেবারে পথে বসে গেছি কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।

দুর্গাপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মো. মনজুর ফরাজী জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করি। টিনশেড বাড়ি হওয়ায় পানি আগুনের মূলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

সবার সহযোগিতা ও আল্লাহর রহমতে পাশের বাড়িগুলো বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ