বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন,জুলাই সনদের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গঠনে বিএনপি আন্তরিকতার প্রমাণ দিলেও কয়েকটি রাজনৈতিক দল ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। চূড়ান্ত সময়েও তারা নানা শর্ত আরোপ করে জাতিকে হতাশ করছে।’ সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে খোলা মন নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহর ধোবাউড়া উপজেলা সদরের বাজারে গণসংযোগকালে এসব বলেন।
এমরান সালেহ প্রিন্স জনসাধারণের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা শোনেন। বিএনপি সরকারে এলে পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে শোবাউড়া বাজারে তিনি পথসভায় বক্তব্য দেন।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘বিএনপি গ্রাম ও শহরের জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার ও বয়সের মানুষের এবং প্রতিটি এলাকার সুষম উন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা নেবে।’
বিএনপির এই নেতা সবাইকে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ধানের শীষ গণতন্ত্র, শান্তি, উন্নয়ন, উৎপাদন ও প্রগতির প্রতীক। অতীতে এই ধানের শীষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশে আওয়ামী বাকশালী শাসনের অবসানে বহু দলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশে জনগণের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে আফ্রিকার দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশ গিনিতে খাদ্য সহায়তা পাঠিয়েছিল, বন্ধ কলকারখানায় উৎপাদনের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।
’
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে ধানের শীষ স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র, ব্যবসা-বাণিজ্যে ঈর্ষণীয় উন্নতি ঘটিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে ‘উদীয়মান বাঘ’-এ পরিণত করেছিলেন, সবার জন্য ডাল-ভাত, মাছ-মুরগি নিশ্চিত করে অবৈতনিক নারী শিক্ষা, উপবৃত্তি, শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিসহ গ্রাম-শহরের জীবনমান উন্নত করে সমৃদ্ধির মহাসড়কে বাংলাদেশ উঠে এসেছিল।
তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের হাত ধরে আওয়ামী ফ্যসিবাদে ভঙ্গুর রাষ্ট্রের রাষ্ট্র মেরামত করে জনগণের গণতন্ত্র, সুশাসন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বৈষম্যবিহীন আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার পাশাপাশি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলেই জনগণ কিছু পায়, কারণ বিএনপির রাজনীতি জনকল্যাণে নিবেদিত ।
পথ সভায় তিনি বলেন, বিএনপি সন্ত্রাস, চাদাবাজি, চরকারবাড়িতে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বণ করবে। যত বড়, জনপ্রিয়, ত্যাগী নেতাই হোক না কেন, বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ এসব অপরাধ করলে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতেই হবে, দলে তার অবস্থান হবে না।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে পথসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আনিসুর রহমান মনিক, মোয়াজ্জেম হোসেন লিটন, আবদুল কুদ্দুস, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম বাবুল, সোলেমান সরকার, আবদুল মোমেন শাহীন, ওলামা দলের মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা উবায়দুল্লাহ, কৃষক দলের আহ্বায়ক নয়ন মণ্ডল, ছাত্রদলের আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন, সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম পলাশ, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মিজানুর রহমান মনিক, সাধারণ সম্পাদক শামীম মিয়া প্রমুখ।