সিলেট ট্রেন যাত্রা: বিড়ম্বনাার শেষ নেই
আপলোড সময় :
১৬-১০-২০২৫ ০৮:৩২:৫২ অপরাহ্ন
সিলেট ট্রেন যাত্রা: বিড়ম্বনাার শেষ নেই: সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ
গতকাল সড়কপথে জনজাট এড়াতে আমি ঢাকা থেকে ট্রেনে বাড়ি আসি। সম্প্রতি সিলেটের প্রতি রাষ্ট্রের অবহেলা নিয়ে উত্তাল শাহজালালের পূন্যভূমি, বাংলার আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেট। রেল সংস্কারের দাবীতেও আন্দোলন চলছে।
আমরা পুরো পরিবার জয়েন্তিকা ঘ বগিতে একটি ৬জনের এসি কেবিন নিয়েছিলাম। আমি মূলত সফর ও আসা যাওয়া পাইভেট গাড়িতেই করি। কিন্তু সড়ক পথের জ্যাম এড়াতে রেলপথে আসার সিদ্ধান্ত নেই। ট্রেনে উঠার পরেই কামরার দায়িত্বরত এটেন্টেইন জানালো, দরজা খুলবেন না। বি বাড়িয়ার লোকজন উঠে জোড়ে বসে যাবে বাচ্চাদের পাশে। অধিকাংশ টিকেট নেই,, রেলের টিটি এসে টিকেট চাইলে উল্টো হুমকী দিচ্ছিল। নিষেধ করেও ক্যাবিন বগিতে উঠা আটকাতে পারে নি গার্ডরা।
এয়ারপোর্টে আসার পরেই দেখলাম রুমের বাহিরে করিডোরে পা ফেলার জায়গা নেই। ভীরের কারণে ওয়াশরুম বা অযুখানায় যাওয়াও অসম্ভব হয়ে গেল।
একটু পরেই এ্যাসির ভিতর সিগেরটের দম আটকে আসা গন্ধ। বাহিরে সিগেরট খাচ্ছে লোকজন এ্যাসি কেবিনিরে দরজার পাশে বসেই। শিশু মহিলাদের অনেক কষ্ট হচ্ছিল। বমি আসছিল। একাধিকবার অনুরোধ, নিষেধ ও অভিযোগ করে কোন কাজ হলো না। উল্টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাতীয় হুমকী, "বেশি কথা কইহেন না, দেইখখা লইমু, আমরার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া"
সম্মান রেখেই বলছি, আমার মনে হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জন্য আলাদা ট্রেন চালু করা জরুরী। আর ঢাকা- সিলেটের সরাসরি ট্রেন চালু করা সময়ের দাবী।
ট্রেন নরসিংদী এর পাশাপাশি আসার পরেই বসে থাকলো। আর কোন চলার নাম নেই। অনেকক্ষণ পর জানা গেল ইঞ্জিন বিকল হয়েছে। ঢাকা থেকে আরেকটি ইঞ্জিন আসার পর ট্রেন আবার গন্তব্য অভিমূখে যাত্রা শুরু করবে। পাক্কা ৩ঘন্টা পর নতুন ইঞ্জিন এলো। যে ধেরির কারণে, সনয় বাঁচাতে জ্যাম এড়াতে রেল পথে আসা হয়েছিল, ঠিক তারচেয়ে বেশি সময় লাগলো সায়েস্তাগঞ্জ আসতে। সিলেটের টিকেট কেটে দ্বীগুন ভাড়া গুনে সায়েস্তাগঞ্জে পৌছলাম সন্ধ্যার পর।
এই হলো সিলেটবাসীর রেলযাত্রা! যত পুরাতন ও লক্কর জক্কর ট্রেন আছে সব সিলেট লাইনে। সেলেট রেল লাইনে নতুন রেল চালু করা সময়ের দাবী।
সিলেটবাসীর যাত্রাপথ হোক নিরাপদ ও আরাম দায়ক।
কমেন্ট বক্স