২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আল্লাহর আয়াতের অপব্যাখ্যার ভয়াবহ পরিণতি

ইসলাম ডেস্ক | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৫ ১২:২৫:০৪ অপরাহ্ন
আল্লাহর আয়াতের অপব্যাখ্যার ভয়াবহ পরিণতি

কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা : আনআম, আয়াত : ৯৩

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে 

وَ مَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا اَوۡ قَالَ اُوۡحِیَ اِلَیَّ وَ لَمۡ یُوۡحَ اِلَیۡهِ شَیۡءٌ وَّ مَنۡ قَالَ سَاُنۡزِلُ مِثۡلَ مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰهُ ؕ وَ لَوۡ تَرٰۤی اِذِ الظّٰلِمُوۡنَ فِیۡ غَمَرٰتِ الۡمَوۡتِ وَ الۡمَلٰٓئِكَۃُ بَاسِطُوۡۤا اَیۡدِیۡهِمۡ ۚ اَخۡرِجُوۡۤا اَنۡفُسَكُمۡ ؕ اَلۡیَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ الۡهُوۡنِ بِمَا كُنۡتُمۡ تَقُوۡلُوۡنَ عَلَی اللّٰهِ غَیۡرَ الۡحَقِّ وَ كُنۡتُمۡ عَنۡ اٰیٰتِهٖ تَسۡتَكۡبِرُوۡنَ ﴿۹۳﴾

সরল অনুবাদ

(৯৩) আর তার চেয়ে বড় জালিম আর কে যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রটনা করে, কিংবা বলে, আমার কাছে ওহী হয়, অথচ তার প্রতি কিছুই ওহি করা হয় না এবং যে বলে, আল্লাহ যা নাজিল করেছেন আমিও তার মতো নাজিল করব? আর যদি আপনি দেখতে পেতেন, যখন জালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকবে এবং ফিরিশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণ বের করো। আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে, কারণ তোমরা আল্লাহর ওপর অসত্য বলতে এবং তার আয়াতসমূহ সম্পর্কে অহংকার করতে।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা আনআমের ৯৩ নম্বর আয়াতে বলা হচ্ছে যে, আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা বা নিজেকে নবী দাবি করা সবচেয়ে বড় জুলুম বা অন্যায়। কারণ এটা সরাসরি আল্লাহর দেওয়া সত্য দীনকে বিকৃত করে; মানুষের ঈমান ও হেদায়েত নষ্ট করে।

 
এখানে দুই ধরনের অপরাধের কথা বলা হয়েছে- (ক) আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা : অর্থাৎ আল্লাহর নামে কিছু বানানো আল্লাহর পক্ষ থেকে আসেনি, তার পরও তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে বলে দাবি করা। মনগড়া ধর্মীয় বিধান প্রণয়ন করা। (খ) নিজেকে উপরোক্ত ওহির কেন্দ্র দাবি করা— অর্থাৎ এমন দাবি করা যে আমার কাছে ওহি এসেছে, অথচ আসেনি।

 

আয়াতে এরপর বলা হয়েছে  কেউ যদি আল্লাহর নিদর্শন বা আয়াতকে নিজের অপূর্ণতার পাশপাশি অহংকারের হাতিয়ার বানায় বা অপব্যাখ্যা করে, তখন তার শাস্তি কঠোর হবে।

 

 

এরপর তাদের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে বলা হচ্ছে-  ফেরেশতাগণ এসব পাপী ও জালিমদের প্রাণ নেওয়ার সময় তাদের প্রতি কঠোরভাবে জোর প্রয়োগ করে তাদের প্রাণ বের করে নেবেন আর অবমাননাকর শাস্তি প্রয়োগ করবেন।

ইবনে কাসির ও তাফসিরে জালালাইনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এমন কিছু মিথ্যুক নবী বা প্রতারণাকারীর উদাহরণ ইতিহাসে পাওয়া গিয়েছে। যেমন- মুসাইলামাতুল কাযযাব, সে নবী হওয়ার দাবি করেছিল। 

আধুনিক যুগে সোশ্যাল মিডিয়া, বাণিজ্যিক স্বার্থ কিংবা রাজনৈতিক বয়ান তৈরিতে নানান কথাকে ধর্মীয় দাবি বা কোরআনের বাণী বা হাদিসের কথা বলে প্রচার করা হয়।

 
যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যদি সেগুলো প্রকৃতই কোরআনের আয়াত না হয়, তাহলে এই আয়াতের আলোকে সেসব বয়ান তৈরিকারীগণও কঠোরতর শস্তির সম্মুখীন হবেন।

 

আয়াতটি আমাদের মনে করায় যে, কারো বলা কোনো ধর্মীয় দাবি গ্রহণ করার আগে পরিমিতি ও প্রমাণ দেখতে হবে—কিন্তু একই সঙ্গে যারা সত্যিকারভাবে দাওয়াত করে, তাদেরও সম্মান জানাতে হবে; কারণ বিচার সততার মাধ্যমে করা উচিত।

আয়াতটি সিদ্ধান্তমূলকভাবে বলে দেয় যে আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা, নিজের ওপর ওহির দাবি আরোপ করা বা আল্লাহর আয়াত নিয়ে অহংকার করা—সব কিছুর চেয়ে বড় অন্যায়। যার পরিণতি পরকালীন অবমাননা ও কঠোর শাস্তি—যা থেকে কেউ মুক্তি পাবে না।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ