দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে সমকামী এক্টিভিস্টের হত্যার হুমকি
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার আসিফ মাহতাব উৎসকে একজন সমকামী অ্যাক্টিভিস্ট অনলাইনে হত্যার হুমকি দেয়।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ‘অ্যান্টার্কটিকা চৌধুরী’ নামের এক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই হুমকিটি দৃষ্টিগোচর হয়। ড. সরোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন, বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু ও শিশুদের স্থূলতা বিষয়ে গবেষণা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। বর্তমানে তিনি আইইউবির স্কুল অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক। এছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ার ওলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর অনারারি সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। এর আগে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের বায়োটেক ডিভিশনে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যদিকে, আসিফ মাহতাব উৎস সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব একজন পাবলিক স্পিকার। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধ ইস্যুতে তিনি প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় ২০১৮ সালে ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারে। পরে মাস্টারমাইন্ড স্কুলে সিনিয়র শিক্ষক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের সহকারী প্রভাষক এবং পরবর্তীতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।
জানা গেছে, ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দেশের অবহেলিত জনস্বাস্থ্য, বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু এবং শিশুদের স্থূলতা গবেষণার মাধ্যমে সচেতনতার কাজ করছেন। তিনি আইইউবির স্কুল অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এবং অস্ট্রেলিয়ার ওলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ বছর অনারারি সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। এর আগে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালের বায়োটেক ডিভিশনে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন।
অন্যদিকে আসিফ মাহতাব একজন পাবলিক স্পিকার ও শিক্ষক, যিনি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সমসাময়িক নানা ইস্যুতে মতামত দিয়ে থাকেন। ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কর্মজীবনে তিনি ২০১৮ সালে ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারে যোগ দেন, পরে মাস্টারমাইন্ড স্কুলে সিনিয়র শিক্ষক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালকে দর্শনের সহকারী প্রভাষক এবং পরবর্তীতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালকে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করছেন।
২০২৩ সালে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ক গল্প নিয়ে সমালোচনা করে তিনি আলোচনায় আসেন। ‘বর্তমান কারিকুলামে নতুন পাঠ্যপুস্তক: বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি ওই গল্পের পাতা ছিঁড়ে ফেলার ভিডিও নিজের ফেসবুকে আপলোড করেন, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এ প্রেক্ষিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় তাকে পাঠদান থেকে বিরত রাখে, যা নিয়ে একাংশ শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানান।
হুমকি প্রসঙ্গে ড. সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি শুধু ব্যক্তিগতভাবে আমাদের জন্য নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যও হুমকি। হুমকি প্রদানকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে বিষয়টি সাইবার ইউনিটের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কমেন্ট বক্স