২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মৎস্য আহরণে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, নিরাপদ বিকল্প জীবিকা চাই : নাগরিক সমাজ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ১৩-১০-২০২৫ ০৬:১৯:২৪ অপরাহ্ন
মৎস্য আহরণে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, নিরাপদ বিকল্প জীবিকা চাই : নাগরিক সমাজ

মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সময়মতো ও ন্যায্য সহায়তার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, নিরাপদ বিকল্প জীবিকা চাই। এ জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্ষুদ্র জেলেদের ন্যায্য সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

সোমবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কোস্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

এ সময় মূল বক্তব্যে কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দেশের প্রায় ২৫ লাখ মানুষ মাছ ধরা, বাজারজাতকরণ, বিপণনসহ অন্যান্য কাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এরমধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার জেলে সরাসরি ইলিশ মাছ ধরে। ইলিশের পুনরুৎপাদনের জন্য মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা জরুরি, তবে এই নিষেধাজ্ঞা যেন ক্ষুধা বা অভুক্ত থাকার কারণে পরিণত না হয়।

 
সরকারকে অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার আগেই প্রতিটি নিবন্ধিত জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি চাল ও ৮ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে। অন্তত একজন সদস্যের জন্য বিকল্প আয়ভিত্তিক কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

 

তিনি আরো বলেন, যুব মৎস্যজীবীদের জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ ও বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি ছোট নৌকায় (খাল ও নদীতে) বসবাসকারী মান্দা সম্প্রদায়কে জেলে কার্ড প্রদান ও নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখার আহবান জানান।

 

 

কোস্ট ফাউন্ডেশনের উপ-নির্বাহী পরিচালক সনত কুমার ভৌমিক বলেন, দেশের ৫৬ শতাংশ ক্ষুদ্র জেলে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকেন এবং ৮৩ শতংশ নিষেধাজ্ঞার শেষে ১ থেকে ২ মাস পরে গিয়ে সহায়তা পান। এছাড়া ৮৭ শতাংশ জেলে কোনো আয়ভিত্তিক কার্যক্রম বা দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নেই এবং ৭০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক উচ্চসুদ ঋণের কারণে ফাঁদে পড়ে টিকে থাকার জন্য অবৈধভাবে মাছ ধরতে বাধ্য হন। আর্থিক চাপের কারণে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলে পরিবারে পারিবারিক সহিংসতা ৩০-৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

নারী ও যুবকদের জন্য পশুপালন, মৎস্যচাষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কর্মসূচির গ্রহণের দাবি জানান কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ।

তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে প্রকৃত জেলেদের নিয়ে ডাটাবেইস দ্রুত হালনাগাদ করা, তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলে পরিবারগুলো ভালো থাকতে পারে।

 

 

তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক খন্দকার ফারুক আহমেদ বলেন, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠাই টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। তাই মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবিকার সুরক্ষা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইলিশ আহরণের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া, সহায়তা বিতরণে দেরি হওয়া, বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিকল্প আয়ের অভাব, জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়, ইকোট্যুরিজমের নামে জেলে পল্লীর জায়গা বেদখল এবং অনানুষ্ঠানিক ঋণের ফাঁদে পড়ে ক্ষুদ্র জেলে পরিবারের গভীর সামাজিক-অর্থনৈতিক সংকটে মধ্যে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র জেলেদের জন্য, বিশেষ করে নারী ও যুবকদের, সময়মতো সহায়তা প্রদান ও আয়ের বিকল্প কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্বচ্ছ উপায়ে নির্বাচিত উপকারভোগীদের মাঝে সহায়তা বণ্টন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ