ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিমুক্তি চুক্তি অনুমোদন করার পর গাজার উল্লেখযোগ্য অংশ থেকে ইসরায়েলি সেনারা সরে যেতে শুরু করেছে বলে খবর দিয়েছে আলজাজিরা। এদিকে গাজার বাস্তুহারা পরিবারগুলোও পশ্চিমের আবাসিক এলাকা থেকে গাজার মূল অংশে ফিরতে শুরু করেছে, যেখান থেকে তাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আলজাজিরা লিখেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কিছু ব্রিগেড ও ডিভিশনকে গাজার কেন্দ্রীয় অংশ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নুসেইরাত আশ্রয়শিবির থেকে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো উত্তর দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছে।
তবে ভোর থেকেই ইসরায়েলি ড্রোন, যুদ্ধবিমান এমনকি যুদ্ধজাহাজের তৎপরতা বেড়েছে। সকালে যেসব জায়গায় মানুষ বাড়ি ফেরার জন্য জড়ো হয়েছিল, সেসব জায়গায় হামলারও খবর এসেছে।
না পাওয়া পর্যন্ত গাজা সিটির সীমান্তবর্তী এলাকায় কাউকে না যেতে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
গাজায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিসরের শার্ম আল শেখে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে তিন দিনের পরোক্ষ আলোচনার পর বৃহস্পতিবার একটি চুক্তির বিষয়ে সমঝোতা হয়। ইসরায়েল সরকার শুক্রবার প্রথম প্রহরে ওই চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। এর মাধ্যমে গাজায় সংঘাত বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি পাওয়ার কথা। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল সরকারের অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ‘ইয়েলো লাইন’ পর্যন্ত সেরে যাবে।
বন্দি-জিম্মি বিনিময় কার্যকর হওয়ার মধ্যেই খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বহন করা অসংখ্য ট্রাকের গাজায় প্রবেশ করার কথা রয়েছে। এই সহায়তার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে গাজার লাখ লাখ মানুষ, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়ে যাদের বেশির ভাগই এখন বিভিন্ন তাঁবুতে আশ্রয় নিয়ে আছে।
সূত্র : আলজাজিরা