নিচে উল্লেখিত হাদিসটিতে মহানবী (সা.)-এর একটি মুজিযা বা অলৌকিক ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে একটি জড় বস্তু—খেজুর গাছের কাণ্ড—নবীর প্রতি ভালোবাসা ও অনুভূতি প্রকাশ করেছে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَلاَ أَجْعَلُ لَكَ شَيْئًا تَقْعُدُ عَلَيْهِ فَإِنَّ لِي غُلاَمًا نَجَّارًا. قَالَ » إِنْ شِئْتِ ». قَالَ فَعَمِلَتْ لَهُ الْمِنْبَرَ، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ قَعَدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ الَّذِي صُنِعَ، فَصَاحَتِ النَّخْلَةُ الَّتِي كَانَ يَخْطُبُ عِنْدَهَا حَتَّى كَادَتْ أَنْ تَنْشَقَّ، فَنَزَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَخَذَهَا فَضَمَّهَا إِلَيْهِ، فَجَعَلَتْ تَئِنُّ أَنِينَ الصَّبِيِّ الَّذِي يُسَكَّتُ حَتَّى اسْتَقَرَّتْ. قَالَ » بَكَتْ عَلَى مَا كَانَتْ تَسْمَعُ مِنَ الذِّكْرِ.
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একজন আনসারি মহিলা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র নিকট আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি আপনার জন্য এমন একটি জিনিস বানিয়ে দেবো না—যার উপর আপনি বসবেন? কেননা, আমার একজন কাঠমিস্ত্রি গোলাম আছে। তিনি বললেন, যদি তুমি তা চাও।
বর্ণনাকারী বলেন, তারপর সে মহিলা তাঁর জন্য মিম্বার তৈরি করলেন। যখন জুমু’আর দিন হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই মিম্বারের উপরে বসলেন। সে সময় যে খেজুর গাছের কাণ্ডের উপর ভর দিয়ে তিনি খুতবা দিতেন, সেটি এমনভাবে চিৎকার করে উঠলো, যেনো তা ফেটে পড়বে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বার থেকে নেমে এসে নিজের সঙ্গে কাণ্ডটিকে জড়িয়ে ধরলেন।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয়—যে হৃদয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ, সে হৃদয় কখনোই সেই ভালোবাসা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে নিচে নেমে এসে খেজুর কাণ্ডটিকে আলিঙ্গন করেন, ফলে তা শান্ত হয়ে যায়। এতে প্রমাণিত হয়—
১. নবীজীর প্রতি ভালোবাসা শুধু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আল্লাহর সৃষ্ট প্রতিটি বস্তু নবীজীর মহিমা অনুভব করে।
২. নবীর অলৌকিক মর্যাদা: জড়বস্তুও তাঁর প্রতি অনুভূতি প্রকাশ করে।
৩. নবীর দয়া ও মমতা: তিনি জড় কাণ্ডটির কান্না সহ্য করতে পারেননি, তাই সান্ত্বনা দিতে নিজে আলিঙ্গন করেছেন।
৪. আল্লাহর নবি ও সৃষ্টির মধ্যে আত্মিক সম্পর্কের দৃষ্টান্ত: এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর স্মরণে নিবেদিত হৃদয় এমনকি জড়বস্তুকেও জীবন্ত অনুভূতিতে ভরিয়ে দেয়।
উপরোক্ত ঘটনাটি পাঠ করে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, খেজুরের কাণ্ড তো একটি জড় পদার্থ। তাহলে এটি কান্না করলো কীভাবে? আসলে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় সবকিছুই সম্ভব। তাছাড়া সুরা ইয়াসিন ৬৫নং আয়াত এবং হা-মিম সাজদাহ ২০নং আয়াত পাঠ করলে অনুধাবন করা যায় যে, কিয়ামতের দিন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ কথা বলবে। তাই জড় পদার্থ কাঁদলে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।