জাতীয় পার্টির কোনো দিন দোসরগিরি করেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, যারা দালালি করেছে তারা চলে গেছে। চাপিয়ে দেওয়া রাজনীতি জাতীয় পার্টি গ্রহণ করবে না। আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের নামে প্রহসন হবে।
আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয় মহিলা পার্টির মতবিনিময়সভায় এ কথা বলেন জি এম কাদের।
এনসিপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘একটি দলের দুজন সদস্য সরকারে রয়েছে, তারা প্রটোকল পাচ্ছে।
বিএনপিকে আধা সরকারি দল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আর বিএনপি আধা সরকারি দল। সরকারি দলে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে ইচ্ছুক, আধা সরকারি দল চাচ্ছে দ্রুত নির্বাচন।
জি এম কাদের বলেন, ‘এখনো ৫০ শতাংশের বেশি লোককে বাইরে রেখে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। শেখ হাসিনার সময়েও তা-ই হয়েছে, এখনো তা-ই চলছে। শেখ হাসিনা ৫০ শতাংশকে বাইরে রাখার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন, এখন প্রশাসনিক আদেশে করা হচ্ছে।’
জি এম কাদের আরো বলেন, ‘দেশের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চাচ্ছে, তারা পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ সব জায়গা দখল করতে চাইছে।
অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ নয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হওয়া উচিত, জনগণ ঠিক করবে কোন দলকে গ্রহণ করবে, সরকারি ও আধা সরকারি দলের মধ্যে নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। বিনিয়োগ আসবে না, দেশ একটা বিপর্যয়ের দিকে যেতে পারে। তেমন একতরফা নির্বাচনে যাব কি যাব না, সেটা ভেবে দেখতে হবে। আগামী নির্বাচনে যথেষ্ট অর্থ ও শক্তি ব্যবহার করা হবে, শেখ হাসিনা যেভাবে করেছিলেন।’
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকার মনে করছে, জি এম কাদেরবিহীন জাতীয় পার্টি হলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, তেমন নেতাদের দিয়ে পার্টি করতে চাইছে। জাতীয় পার্টির কোনো দিন দোসরগিরি করেনি, যারা দালালি করেছে তারা চলে গেছে। চাপিয়ে দেওয়া রাজনীতি জাতীয় পার্টি গ্রহণ করবে না। সব ধরনের মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না।’
জাতীয় মহিলা পার্টির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একটি দলের নেতা বলছে, তারা নির্বাচিত হলে মেয়েরা মেয়েদের সামনে নাচবে, এটা কি দেশের লোক গ্রহণ করবে, হয়তো শাস্তির দিকে গেলে মানতে বাধ্য হবে। মহিলাদের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাবে। যে কারণে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে।’
জাতীয় মহিলা পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক হেনা খান পন্নীর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজি সাইফুদ্দীন আহমেদ মিলন, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর শিকদার লোটন প্রমুখ।