চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ শাহনাজ বেগম লাকি টানা ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়। এরইমধ্যে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত নাছিমা বেগমের বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।
শাহনাজ বেগম লাকি (৩৬) ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের উপাদিক গ্রামের আমিনুল খানের স্ত্রী।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সুদের ব্যবসায়ী নাছিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এদিকে শাহনাজ বেগম লাকির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ বলেন, গত দু’বছর পূর্বে সুদের ব্যবসায়ী নাছিমা বেগমের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেন শাহনাজ বেগম। সেই টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।
এ নিয়ে তাদের গত কয়েক মাস ধরেই সুদের টাকা পরিশোধ ও স্ট্যাম্প দেওয়া না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরে শুক্রবার রাতে সুদের ব্যবসায়ী নাছিমা বেগমসহ তার লোকজন লাকির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠালে সেখানে বুধবার বিকেলে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে ভুক্তভোগী শাহনাজ বেগম লাকি।
এ জনপ্রতিধি আরো বলেন, এর আগে সুদ ব্যবসায়ী নাছিমা বেগমের দ্বারা হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীরা তার বিচার চেয়ে উপাদিক গ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, শাহনাজ বেগম লাকির শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তার মা হাজেরা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত নাছিমা বেগমকে আটক করে জেলে পাঠানো হয়েছে। এখন যেহেতু ভিকটিম মারা গেছে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মামলার বাদী নিহত শাহনাজ বেগম লাকির মা হাজেরা বেগম বলেন, মেয়েকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম নির্যাতনের মধ্যদিয়ে শরীরে কেরোসিনের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সবশেষ বুধবার রাতে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত নাছিমা বেগমের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। একই সঙ্গে লুটপাট করে বাড়ির মালামাল নিয়ে যায় তারা। এসময় নাছিমা বেগমের মেয়ে ও মা নিরাপদে গা ঢাকা দিতে সক্ষম হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে তার আগেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়।