তালতলীতে রাস্তায় মঞ্চ, সংবর্ধনার ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
বরগুনা জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির তিন নেতাকে সংবর্ধনা দিতে মঙ্গলবার বিকেলে তালতলীর সদর রোড যেন রূপ নেয় জনসমুদ্রে। তালতলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে রাস্তায় স্থাপন করা হয় মঞ্চ। এর ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করেই গত ২৮ সেপ্টেম্বর নবগঠিত কমিটির নেতারা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শেষে পাশ্ববর্তী আমতলী উপজেলার চারটি স্থানে গণ সংবর্ধনা নেন।
বিকেল সাড়ে চারটায় শাখারিয়া, মহিষকাটা, বটতলা ও আমতলী চৌরাস্তায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এমন সড়ক আটকে সংবর্ধনা দেওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে।
বরিশাল বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা কিংবা রাস্তা আটকে কোনো সংবর্ধণা করা যাবে না। কেন্দ্রের এমন নির্দেশনা রয়েছে।
তার পরেও যারা এটি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালতলীতে সংবর্ধণার জন্য সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সদর রোডের দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বিভিন্ন গ্রুপের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছাতে থাকেন। বিকেল তিনটার আগেই সড়কটি পুরোপুরি জনসমুদ্রে ভরে যায়।
বিএনপির চারটি গ্রুপের অনুসারী নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় বাজার কমিটির অধিকাংশ দোকান বন্ধ রাখা হয়। পূর্বে অন্তত তিনবার বিবাদমান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও মামলা-পাল্টা মামলার ঘটনা ঘটেছিল।
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত রাজনৈতিক কর্মসূচি তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে কিংবা তালতলী সালেহিয়া আলীম মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্টিত হয়। দুইটি মাঠ থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ রাস্তায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজনকে কিছু নেতাকর্মী অস্বস্তিকর মনে করেছেন। তবে প্রকাশ্যে কেউ সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তালতলী বহুমুখী বাজার কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, 'বিকেলে সদর রোডে মানুষের আনাগোনা কম থাকে। অধিকাংশ দোকানও বন্ধ থাকে। এই কারণেই রাস্তায় মঞ্চ করা হয়েছে।'
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল হক বলেন, 'বরগুনা জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের তালতলী সফরের জন্য এ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে। রাস্তায় মঞ্চ হলেও যান চলাচলের জন্য পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়েছে। ট্রাফিকের দায়িত্বে কর্মীরাও নিয়োজিত রয়েছেন।'
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা ও সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, 'আওয়ামী লীগের সময়ও এই রাস্তায় কর্মসূচি হয়েছে। তালতলীর জন্য এটা একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আপত্তি তুলিনি। সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য নেতাকর্মীরা সংবর্ধনার আয়োজন করেছে।'
জানাগেছে, তিন বছর পর ২২ সেপ্টেম্বর রবিবার রাতে বরগুনা জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে নজরুল ইসলাম মোল্লাকে আহ্বায়ক, হুমায়ুন হাসান শাহীনকে সদস্য সচিব ও ফজলুল হক মাস্টারকে প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, 'রাজনীতি মানুষের কল্যাণে হওয়া উচিত। কিন্তু রাস্তায় মঞ্চ করে মানুষের যাতায়াত বন্ধ করলে এটা অকল্যাণ বয়ে আনে। এমন সংবর্ধনা ঠিক হয়নি।'
সংবর্ধনায় কয়েক হাজার নেতাকর্মী, যুবদল ও ছাত্রদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কমেন্ট বক্স