স্মরণ - জাতীয় ইতিহাসবেত্তা সৈয়দ মুর্তাজা আলী
আপলোড সময় :
১০-০৮-২০২৫ ০৯:১৫:৪৫ অপরাহ্ন
সৈয়দ মুর্তাজা আলী একজন লেখক, গবেষক এবং ইতিহাসবিদ যিনি সিলেটের ইতিহাস বিষয়ে গবেষণা করেছেন।
তাঁর গবেষণা ও লেখালেখির জন্য তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার।
জন্ম ১৯০২ সালের ১ জুলাই সিলেটের করিমগঞ্জ শহরে। পৈত্রিক নিবাস হবিগঞ্জ জেলার উত্তরসুর গ্রামে। তিনি মৌলভীবাজারের সাব রেজিস্ট্রার খান বাহাদুর সৈয়দ সিকান্দার আলীর তিন পুত্রের মধ্যে দ্বিতীয়। তাঁর ছোট ভাই ছিলেন বিখ্যাত রম্য সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী।
মৌলভীবাজার ও সিলেট গভর্নমেন্ট স্কুলে শিক্ষালাভ করে সুরমা উপত্যকার মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে ১৯২১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় প্রথম হওয়ায় সে যুগে ১৫ টাকার মাসিক বৃত্তি পান। পরীক্ষায় ম্যাথমেটিক্স, এডিশনাল ম্যাথমেটিক্স ও মেকানিক্স-এ লেটারসহ (৮০% নম্বর) স্টার মার্ক পান।
১৯২৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে মুরারিচাঁদ কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও গণিতে লেটারসহ স্টারমার্ক পান।
ঐতিহ্যবাহী বেকার হোস্টেলে বাস করে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএসসি (পদার্থবিদ্যায় অনার্স) পরীক্ষায় ১৯২৫ সালে দ্বিতীয় বিভাগে দ্বিতীয় হন। তারপর এমএসসি (হিট) ও আইনশাস্ত্রে একবছর লেখাপড়া করেন।
শিক্ষাজীবনের মতো মেধার স্বাক্ষর রাখেন তিনি তাঁর কর্মজীবনেও।
তৎকালীন আইসিএস পরীক্ষায় বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করলেও তাঁকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
পরে ১৯২৬ সালে আসাম প্রভিন্সিয়াল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঐ বছরই তিনি মৌলভীবাজার মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন এবং আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণের সমাপ্তি ঘটে।
তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনে কাজ করেছেন অনেক জায়গায়। তার মধ্যে ১৯৪০-১৯৪৪ সাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জে সাবডিভিশনাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন। এসময় তিনি সুনামগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
১৯৪৪ সালে কাজ করেছেন শিলংয়ে শিক্ষা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি পদে, এছাড়া তেজপুরে এডিশনাল ডেপুটি কমিশনার হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৪৬ সালে।
দেশবিভাগ হবার অব্যবহিত পূর্বে রেফারেন্ডামের সময় তিনি সিলেটের এডিএম ছিলেন। এরপর ১৯৪৮ সালে কুষ্টিয়ার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট হন। ঐ বছরের শেষাংশে ঢাকায় জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে হোম ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন।
১৯৪৯ সালে বগুড়ায় ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট, পরে কিছুদিন চট্টগ্রামের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট পদেও ছিলেন। তারপর করাচিতে কেন্দ্রীয় পাকিস্তান সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি ছিলেন ১৯৫১-১৯৫৩ সাল পর্যন্ত।
এরপর আবার ঢাকায় বদলি হয়ে প্রথমে জয়েন্ট সেক্রেটারি ও পরে সেক্রেটারি পদে।কাজ করেন রাজস্ব বিভাগে।
এরপর রাজশাহীর ডিভিশনাল কমিশনার হিসেবে ১৯৫৭-১৯৫৯ পর্যন্ত অধিষ্ঠিত থেকে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন।
অবসর গ্রহণের পরেও তিনি কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করেন। ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার উপদেষ্টা পরিষদে প্রথমে সদস্য ও পরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুই মেয়াদে, প্রথমে ১ আগস্ট ১৯৬৯ থেকে আগস্ট ১৯৭১, এবং পরে পুনরায় মার্চ ১৯৭৫ থেকে মার্চ ১৯৭৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে। তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭৪ সালে এবং মৃত্যুকালেও চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউটের।
সৈয়দ মুর্তাজা আলী ১৯৮১ সালের ৯ আগস্ট রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্যসূত্রঃ 'দৈনিক ইত্তেফাক'
৯ সেপ্টেম্বর ২০০৯
অনুলিখনঃ -- মেসবা খান
কমেন্ট বক্স